কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড়ে মহিষ আনতে গিয়ে মো. আরফাত (১৩) নামের এক কিশোর অপহরণের শিকার হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এলাকার পাহাড়সংলগ্ন স্থান থেকে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। অপহৃত আরফাত শামলাপুর পুরানপাড়া এলাকার আব্দুল মাবুদের ছেলে। এই ঘটনার পর অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ফোন করে পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রতিদিনের মতো আরফাত পাহাড়ের পাদদেশে মহিষ আনতে গিয়েছিল। সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও সে বাড়িতে না ফেরায় স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোথাও তার সন্ধান না পেয়ে পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। আরফাতের বাবা আব্দুল মাবুদ জানান, শনিবার সকালে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে জানানো হয় যে আরফাত তাদের কবজায় রয়েছে। তাকে জীবিত ফেরত পেতে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে এবং টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তারা অত্যন্ত দরিদ্র এবং এত বড় অঙ্কের টাকা দেওয়ার সামর্থ্য তাদের নেই। তিনি তার ছেলেকে দ্রুত উদ্ধারে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন।
বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আবু সাঈদ জানান, স্থানীয় ইউপি সদস্য শফিউল কাদের (কালু) বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেছেন। ভুক্তভোগী পরিবারকে টেকনাফ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অপহৃত কিশোরকে উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দাদের তথ্যমতে, টেকনাফের বাহারছড়া, হ্নীলা, হোয়াইক্যং ও সদর ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় অপহরণের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত দেড় বছরে এই উপজেলা থেকে ২৫০ জনেরও বেশি মানুষ অপহরণের শিকার হয়েছেন। গবাদিপশু চরানো বা জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের জন্য পাহাড়ে যাওয়া সাধারণ মানুষ বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অপহরণ চক্রের তৎপরতা বন্ধে সীমান্ত এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
টেকনাফের বাহারছড়ায় মহিষ আনতে গিয়ে অপহৃত হয়েছে ১৩ বছরের কিশোর আরফাত। মুক্তিপণ হিসেবে ২০ লাখ টাকা দাবি করেছে অপহরণকারীরা। অপহৃত কিশোরকে উদ্ধারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


0 Comments