জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো দেশের সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সেনাবাহিনী মোতায়েনের আইনি সুযোগ তৈরি করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে দ্বৈত নাগরিক এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বন্ধের প্রস্তাব করতে যাচ্ছে এই সাংবিধানিক সংস্থাটি। তবে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা রাজনৈতিক দলের নেতাদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার কোনো পরিকল্পনা আপাতত ইসির নেই।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, জেলা পরিষদ বাদে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা ও সিটি করপোরেশন আইনের সংশোধনী প্রস্তাব তৈরি করেছে ইসির আইন-বিধি সংস্কার কমিটি। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা আইনে প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা থাকলেও উপজেলা ও সিটি করপোরেশন আইনে তা নেই। ইসি এখন সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানেই সশস্ত্র বাহিনীকে এই সংজ্ঞায় যুক্ত করতে চায়। এতে করে আলাদা আদেশ ছাড়াই সেনাবাহিনী ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন এবং বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারের ক্ষমতা পাবে।
ইসির আইন-বিধি সংস্কার কমিটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানান, সব আইনের বিধান অভিন্ন রাখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এমপিওভুক্ত স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজের শিক্ষক বা সার্বক্ষণিক কর্মচারীরা যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন, সেই প্রস্তাব করা হচ্ছে। এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পদ বাদে অন্য সব স্তরে দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থিতা অযোগ্য ঘোষণার পক্ষে মত দিয়েছে কমিশন।
আগামী মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের সভায় এই প্রস্তাবগুলো অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে। সেখানে অনুমোদিত হলে সুপারিশগুলো আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলে মনে করছে ইসি। বিশেষ করে পুলিশের সক্ষমতা নিয়ে সংশয় থাকায় সশস্ত্র বাহিনীকে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনার এই পরিকল্পনা করা হয়েছে।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞ আবদুল আলীম ইসির এই প্রস্তাবগুলোকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি মনে করেন, স্থানীয় সরকার আইনে সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা হলে তা সাধারণ মানুষের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছাবে এবং নির্বাচনের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে সহায়ক হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেনা মোতায়েন এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থিতা নিষিদ্ধ করতে আইনের সংশোধনী প্রস্তাব করছে নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার ইসির সভায় এই প্রস্তাব তোলা হবে।


0 Comments