চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সারাদেশে ১ হাজার ৭৭৫টি নির্মম হত্যাকাণ্ড এবং ১০ হাজার ১০৪টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। তথ্য অনুযায়ী, প্রতিহিংসা, আধিপত্য বিস্তার এবং পারিবারিক কলহসহ নানা কারণে এসব অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত প্রতি মাসেই খুনের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে জুন মাসে সর্বোচ্চ ৩২৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
খুলনার লবণচরা এলাকায় চার বছরের শিশু জান্নাতুল মাওয়াকে আইসক্রিম খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনাটি পৈশাচিকতার চরম উদাহরণ হিসেবে দেখা দিয়েছে। পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন জানান, এই ঘটনায় জড়িত তোতা মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তোতা মিয়া ইতিপূর্বে তার প্রথম স্ত্রীকে হত্যার দায়ে ১৯ বছর জেল খেটেছিল। ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার জেরে সে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।
পুলিশের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত জানুয়ারি মাসে ২৮৭ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২৫০ জন, মার্চে ৩১৭ জন, এপ্রিলে ২৮৮ জন এবং মে মাসে ৩১০ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। খুনের পাশাপাশি মাদক, ডাকাতি ও দস্যুতার মামলাও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে জুন মাসে ১৮ হাজার ৭৪৯টি বিভিন্ন অপরাধের মামলা দায়ের হয়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিকে নির্দেশ করে।
এদিকে, মাঠপর্যায়ে পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রমে স্থবিরতার অভিযোগ তুলেছেন অনেক ভুক্তভোগী। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুলিশ প্রশাসনে বড় রদবদল ঘটায় অনেক ক্ষেত্রে অপরাধ দমনে ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম দাবি করেছেন, অপরাধী যেই হোক তাকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। তিনি জানান, প্রতিটি ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করছে এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত আসামিদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
দেশে গত ৬ মাসে ১,৭৭৫টি খুন ও ১০ হাজার নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। অপরাধ বাড়লেও মাঠপর্যায়ে পুলিশের স্থবিরতার অভিযোগ উঠেছে। তবে প্রশাসন বলছে, অপরাধীদের দমনে তারা সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে।


0 Comments