আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিদ্যমান আইন ও আচরণবিধিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১২তম সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে ইসি সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান।
প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, ঋণখেলাপির জামিনদার ও বন্ধকদাতা এবং দ্বৈত নাগরিকত্বধারীরা স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। এছাড়া ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস বা ভূমি করের মতো ইউটিলিটি বিল বকেয়া থাকলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নির্বাচনে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য বিদ্যমান ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের বিধানটি বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে এবং প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছে কমিশন। আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান আরও কঠোর করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে গুরুতর লঙ্ঘনের দায়ে প্রার্থী বা তার এজেন্টকে তাৎক্ষণিকভাবে অযোগ্য ঘোষণা করার ক্ষমতা কমিশনের হাতে থাকবে। এছাড়া প্রচারের সময়সীমা কমানো ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার ওপর নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
ইসি সচিব আরও জানান, আগামী অক্টোবর মাসের প্রথমার্ধে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারের ভোট শুরু হতে পারে। সে লক্ষ্যে ৩১ আগস্ট ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা হবে এবং আগস্টের শেষ দিকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, বেগম তাহমিদা আহমদ, আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে ইসি। এমপিওভুক্ত শিক্ষক, ঋণখেলাপির জামিনদার ও দ্বৈত নাগরিকরা প্রার্থী হতে পারবেন না। অক্টোবর থেকে শুরু হতে পারে ভোট গ্রহণ।


0 Comments