হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী পণ্যবাহী জাহাজ থেকে ২০ শতাংশ ফি বা টোল আদায়ের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দেওয়া নিরাপত্তার খরচ মেটাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের মতেই, আন্তর্জাতিক জলপথে এ ধরনের ফি আদায় আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।
গত সোমবার এই ঘোষণা দেওয়ার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র যে ব্যয় করছে, তা এই ফির মাধ্যমে উশুল করা হবে। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করা শুরু করবে। এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এর আগে বলেছিলেন যে, আন্তর্জাতিক আইনে কোনো দেশেরই এমন টোল আদায়ের অনুমতি নেই।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই এই ঘোষণা এল। গত এক সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় মাসখানেক ধরে চলা যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে উপহাস করে বলেছেন, যারা নিরাপত্তা দেবে তাদের ক্ষতিপূরণ পাওয়া উচিত, তবে এই জলপথের নিরাপত্তা আসলে ইরানই দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০ শতাংশ ফি আরোপ করা হলে তেল পরিবহনের খরচ দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে। একটি বড় ট্যাংকারের ক্ষেত্রে এই বাড়তি খরচ ৩ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে, যার প্রভাব পড়বে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মালাক্কা প্রণালিতে নির্দিষ্ট সেবার জন্য ফি নেওয়া হলেও যাতায়াতের জন্য কোনো টোল দিতে হয় না। সব মিলিয়ে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ বিশ্ববাজারে নতুন অস্থিরতার শঙ্কা তৈরি করেছে।
হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী পণ্যবাহী জাহাজে ২০ শতাংশ ফি আদায়ের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামরিক নিরাপত্তার খরচ মেটাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলেও এটি আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।


0 Comments