বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ খাল খনন কর্মসূচির সুফল পেতে শুরু করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। এক সময় বর্ষা মৌসুমে হাজার হাজার একর আবাদি জমি জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত থাকলেও এখন দ্রুত পানি নিষ্কাশন হচ্ছে। এতে কৃষকের ফসল রক্ষা পাওয়ার পাশাপাশি জলাবদ্ধ জমিগুলো পুনরায় চাষাবাদের উপযোগী হয়ে ওঠায় ব্যস্ত সময় পার করছেন এ অঞ্চলের প্রান্তিক চাষিরা।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আগে বর্ষার মৌসুমে যেসব জমি পানিতে তলিয়ে থাকত, খাল খননের ফলে সেখান থেকে দ্রুত পানি নেমে যাওয়ায় কৃষকরা আমন ধান চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করতে শুরু করেছেন। চকসিংড়া এলাকার কৃষক সেলিম ও শামিম জানান, গত বছর বর্ষায় তাদের জমি পানিতে ভেসে গেলেও এবার খাল খননের কারণে বৃষ্টির পানি দ্রুত সরে গেছে। ফলে তারা এখন ধান চাষের জন্য হালচাষ শুরু করতে পেরেছেন।
একই চিত্র দেখা গেছে লক্ষিকোলা এলাকায়। সেখানকার বাসিন্দা জহুরা বেগম জানান, আগে বর্ষার পানি উঠে উঠান ও বাড়িঘর প্লাবিত করলেও এবার খালের মাধ্যমে পানি সরাসরি নেমে গেছে। অন্যদিকে স্থানীয় কৃষক রফিক ও হাফিজার জানান, খনন করা খালে পানি প্রবাহিত হওয়ায় তারা সেখান থেকে মাছ ধরে পরিবারের আমিষের চাহিদাও মেটাচ্ছেন।
শেরপুর উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভদ্রাবতী, চকরামপুর ও একদুলতলা খাল প্রকল্পের ৯.০৩ কিলোমিটারের মধ্যে ইতিমধ্যে ৪.৩৩ কিলোমিটার খনন সম্পন্ন হয়েছে। কাজের মান পর্যবেক্ষণ করে এখন পর্যন্ত ২৮ শতাংশ বিল প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ঝাঁজর, পারভবানীপুর, মেই খাল, কৈগাড়ী ও দুধকমাড় খাল প্রকল্পের আওতায় ৯.০৯ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় ৮.৭১৫ কিলোমিটার খনন শেষ হয়েছে।
প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে শেরপুর উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ জানান, বর্তমানে বর্ষা মৌসুমের কারণে খননকাজ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, সিডিউল ও ডিজাইন অনুযায়ী প্রতিটি খালের কাজের গুণগত মান সরেজমিনে যাচাই করা হচ্ছে। কাজের সঠিক মান নিশ্চিত করার পরই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করা হবে। পানি কমলে বাকি কাজ পুনরায় শুরু হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বগুড়ার শেরপুরে প্রধানমন্ত্রীর খাল খনন কর্মসূচির সুফল পাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। জলাবদ্ধতা দূর হওয়ায় আমন চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। প্রকল্পের কাজের মান যাচাই করে বিল পরিশোধ করছে কর্তৃপক্ষ।


0 Comments