চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে পরীক্ষা গ্রহণ এবং প্রশ্নপত্রে ভুল থাকায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের সৃজনশীল অংশে ভুল থাকা এবং অন্যান্য বিষয়ের প্রশ্ন তুলনামূলক কঠিন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল ছিল এবং ওই দুটি প্রশ্নের জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে। এই ভুলের দায়ে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াছমীন প্রশ্নপত্র মডারেশনের দায়িত্বে থাকা চারজন শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন। শোকজ পাওয়া শিক্ষকরা হলেন শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, বৃন্দাবন সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক কাজী জুনায়েদ আল আমিন, এমসি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোছাদ্দেক হোসেন খান এবং সিলেট সরকারি মডেল স্কুল ও কলেজের প্রভাষক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
এদিকে অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের পরীক্ষা ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। সোমবারের পরীক্ষায় কুমিল্লাসহ বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষার্থীরা কোমরসমান পানি মাড়িয়ে কেন্দ্রে পৌঁছান, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হয়। শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলো পুনরায় নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। তবে প্রশ্নপত্র কঠিন হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা। তাদের মতে, মূল পাঠ্যবই অনুসরণ না করে গাইড বইয়ের ওপর নির্ভরশীলতার কারণে কিছু শিক্ষার্থীর কাছে প্রশ্ন কঠিন মনে হতে পারে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, লটারির মাধ্যমে প্রশ্নপত্র নির্বাচনের গোপনীয় প্রক্রিয়ার কারণে পরীক্ষার আগে কোনো ত্রুটি শনাক্ত করা সম্ভব হয় না।
এইচএসসি পরীক্ষায় পদার্থবিজ্ঞানের ভুল প্রশ্নে পূর্ণ নম্বর দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। বৈরী আবহাওয়ায় পরীক্ষা ও কঠিন প্রশ্ন নিয়ে ক্ষোভের মুখে ৪ শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে।


0 Comments