প্রশান্ত মহাসাগরের উপরিভাগের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বজুড়ে চরমভাবাপন্ন আবহাওয়া বিরাজ করছে। বিজ্ঞানীরা এল নিনোর এই বর্তমান অবস্থাকে ‘সুপার এল নিনো’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, যার প্রভাব আগামী এক থেকে দেড় বছর স্থায়ী হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি) এক বিবৃতিতে বাংলাদেশে আবহাওয়া বিপর্যয়ের বিষয়ে বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এল নিনোর প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় বিশেষ করে বাংলাদেশে ভারী বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামসহ দেশের প্রায় ৪৩টি জেলায় টানা ভারী বর্ষণ ও বন্যার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, বন্যায় প্রায় এক লাখ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আমন ধানের উৎপাদন ৩ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। বাংলাদেশের কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি মূলত মৌসুমি বায়ুর ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এল নিনোর প্রভাবে এই খাতটি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া সবজি আবাদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে বড় ধরনের ক্ষতির ফলে বাজারে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের বর্তমান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি মূলত প্রতিকারমূলক, যা কোনো ঘটনা ঘটার পর সক্রিয় হয়। আগাম সতর্কবার্তা থাকা সত্ত্বেও পাহাড়ধস ও বন্যায় প্রাণহানি ঠেকাতে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। আইআরসির সতর্কবার্তা অনুযায়ী, আগামী কয়েক সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব ও খাদ্যনিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় সরকারকে একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যাতে নাগরিকদের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষিত থাকে।
সুপার এল নিনোর প্রভাবে বাংলাদেশে আবহাওয়া বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রামসহ সারাদেশে বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে আইআরসি। কৃষিখাতে বড় ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।


0 Comments