স্কুল থেকে ফেরার পর পড়ার কথা বললেই অনেক শিশু অনীহা বা কান্নাকাটি শুরু করে। সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত অভিভাবকরা অনেক সময় বকাঝকা বা জোর করে পড়তে বসান, যা হিতে বিপরীত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন শিশু মনোবিজ্ঞানীরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুকে পড়তে বাধ্য না করে বরং শেখার প্রতি কৌতূহল ও আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে পারলেই পড়াশোনা তার কাছে স্বাভাবিক অভ্যাসে পরিণত হবে।
জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (UNESCO) এবং ইউনিসেফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিশুদের শিক্ষার ক্ষেত্রে মানসিক সুস্থতা ও পারিবারিক পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিক্স শিশুদের অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম বা মোবাইল ব্যবহারের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করে নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণের পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুরা কেন পড়তে চায় না তার পেছনে শারীরিক ক্লান্তি, কঠিন বিষয়বস্তু, ঘুমের অভাব কিংবা পরিবারের নেতিবাচক পরিবেশ দায়ী হতে পারে।
এই সমস্যা সমাধানে শিক্ষাবিদ ও মনোবিজ্ঞানীরা বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। স্কুল থেকে ফেরার পর শিশুকে অন্তত ৩০ থেকে ৬০ মিনিট বিশ্রাম বা খেলার সুযোগ দেওয়া উচিত। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে পড়ার রুটিন তৈরি করলে মস্তিষ্ক দ্রুত শিখতে প্রস্তুত হয়। পড়াশোনাকে ছবি, গল্প বা কুইজের মাধ্যমে আনন্দদায়ক করে তোলার পাশাপাশি একটানা না পড়িয়ে ২০-২৫ মিনিট পর পর বিরতি দেওয়া বেশি কার্যকর। এছাড়া ভালো ফলাফলের চেয়ে শিশুর প্রচেষ্টার প্রশংসা করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
মোবাইল ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিবারের সবার জন্য অভিন্ন নিয়ম থাকা প্রয়োজন। শিশুর শেখা দৃঢ় করতে তাকেই কোনো বিষয় বুঝিয়ে বলতে বলা যেতে পারে। পড়ার জন্য নিরিবিলি ও শান্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম ও পুষ্টিকর খাবারের দিকেও নজর দিতে হবে। ইতালীয় শিক্ষাবিদ মারিয়া মন্টেসরি এবং মনোবিজ্ঞানী ক্যারল ডোয়েকের মতে, শিশুকে সঠিক পরিবেশ ও পরিশ্রমের মাধ্যমে দক্ষতা বাড়ানোর উৎসাহ দিলে তারা ব্যর্থতাকে ভয় না পেয়ে শিখতে আগ্রহী হয়। তবে শিশু যদি দীর্ঘ সময় ধরে পড়াশোনায় সম্পূর্ণ অনাগ্রহী থাকে বা আচরণে বড় পরিবর্তন দেখা যায়, তবে বিশেষজ্ঞ বা শিশু মনোবিজ্ঞানীর পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
পড়ার টেবিলে বসতে সন্তানের অনীহা? শিশুর পড়াশোনায় আগ্রহ বাড়াতে এবং শেখার প্রক্রিয়াকে আনন্দময় করতে বিশেষজ্ঞদের দেওয়া ১০টি কার্যকর পরামর্শ ও করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন।


0 Comments