ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও বাংলাদেশের রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন। প্রায় দুই বছর ভারতে অবস্থানের পর দেশে ফিরে তাঁর আত্মসমর্পণের বার্তার প্রেক্ষিতে তাঁর আইনি ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে প্রচলিত আইন অনুযায়ী, শেখ হাসিনার মুক্ত মানুষ হিসেবে আদালতে আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছে। একই সঙ্গে তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
আইনি বিধান অনুযায়ী, দণ্ডিত হওয়ার কারণে দেশে ফেরা মাত্রই তিনি গ্রেপ্তার আসামি হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁকে হেফাজতে নিয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী, রায়ের ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার বিধান থাকলেও সেই সময়সীমা ইতিমধ্যে পার হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে শেখ হাসিনা আপিল বিভাগে বিলম্ব মার্জনার আবেদন করতে পারবেন। আদালত যদি সেই আবেদন গ্রহণ না করে, তবে ট্রাইব্যুনালের দণ্ড কার্যকরে উচ্চ আদালতের পৃথক কোনো অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না। শেখ হাসিনা এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করলেও রাষ্ট্রপক্ষ একে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বিচারিক প্রক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করেছে।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁকে সরাসরি গ্রেপ্তার করা হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে তাঁর আইনি ভবিষ্যৎ ও বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত জানুন।


0 Comments