যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বৈঠকে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের টেকসই ও নির্বিঘ্ন উত্তরণ নিশ্চিত করতে তিনি জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল লি জুনহুয়াসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়িয়ে ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত করার প্রস্তাব তুলে ধরেন।
উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানান, সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতেই এই সময় বৃদ্ধি প্রয়োজন। তিনি জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল লি জুনহুয়া, ইউএন-এসক্যাপের নির্বাহী সচিব আর্মিদা সালসিয়াহ আলিসজাহবানা এবং ইউএনডিপির আঞ্চলিক পরিচালক কান্নি উইগ্নারাজার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। এসব আলোচনায় তিনি বাংলাদেশের সংস্কার কর্মসূচি ও এসডিজি বাস্তবায়নে জাতিসংঘের জোরালো সমর্থন কামনা করেন।
লি জুনহুয়া বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় জাতিসংঘের অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং এলডিসি উত্তরণ প্রক্রিয়া সফল করতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অন্যদিকে, ইকোসকের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে উপদেষ্টা তিতুমীর এলডিসি দেশগুলোর জন্য পাঁচটি অগ্রাধিকার বিষয় তুলে ধরেন। তিনি স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা বাড়ানো, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কারের ওপর জোর দেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর জন্য এই অতিরিক্ত সময় কোনো বিলাসিতা নয়, বরং একটি কৌশলগত প্রয়োজন।
বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা ২০২৯ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই জোরালো আহ্বান জানান।


0 Comments