বন্যার প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণ এবং পরীক্ষার্থীদের নিয়ে করা বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য জাতীয় সংসদে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই দুঃখ প্রকাশ করেন। মন্ত্রী জানান, তার ব্যক্তিগত মন্তব্য নিয়ে অনেকেই আপত্তি তুলেছেন, তবে তিনি কাউকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কিছু বলেননি। তবুও কেউ যদি তার কথায় কষ্ট পেয়ে থাকেন, তার জন্য তিনি দুঃখিত। মন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর উপস্থিত সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তার দুঃখ প্রকাশকে স্বাগত জানান।
অধিবেশন চলাকালে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা সম্পূরক প্রশ্নে জানতে চান, বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়া সত্ত্বেও কেন পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া হয়নি। এর উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী জানান, সারা দেশের প্রায় ২ হাজার ৭০০ কেন্দ্রে একযোগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা আগেই স্থগিত করা হয়েছিল। তবে অন্যান্য স্থানে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তটি ৬৪ জেলার এসপি, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, ইউএনও এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছিল।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, পরীক্ষার দিন সকালে কুমিল্লা সরকারি কলেজের মাঠ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্র পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া কুমিল্লা মহিলা কলেজে এক পরীক্ষার্থীর পোশাক ভিজে যাওয়ায় তাকে বিকল্প পোশাকের ব্যবস্থা করে এক ঘণ্টা পর পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ ও অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়। পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নে ত্রুটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রশ্নপত্রটি বর্তমান সরকারের আমলে তৈরি নয়। তবে ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল থাকায় পরীক্ষার্থীদের ওই দুটি প্রশ্নের জন্য পূর্ণ নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি এক পরীক্ষার্থীর সঙ্গে ফোনালাপে শিক্ষার্থীদের 'ফার্মের মুরগি' বলে মন্তব্য করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন শিক্ষামন্ত্রী।
বন্যার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণ এবং পরীক্ষার্থীদের নিয়ে করা বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে জাতীয় সংসদে দুঃখ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


0 Comments