পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় মাধবখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী মিজানুর রহমানের বসতঘর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর মালামাল লুট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত উপজেলার কাঁঠালতলী বাজারসংলগ্ন উত্তর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ হামলা চালানো হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরীর ছোট ভাই ও স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহীন চৌধুরী এবং দলের নেতা-কর্মীরা এই হামলায় জড়িত।
কাজী মিজানুর রহমান মাধবখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। তার স্ত্রী মেহেরুন্নেছা শিল্পী জানান, অসুস্থ শাশুড়িকে নিয়ে তারা ঢাকায় থাকায় বাড়িতে কেউ ছিল না। এই সুযোগে মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ওরফে পলাশ হাওলাদার এবং সাবেক সভাপতি মনির খন্দকারের নেতৃত্বে প্রায় আড়াই শ মানুষ বুলডোজার দিয়ে তাদের পাকা ঘরটি ভেঙে ফেলে। তিনি আরও দাবি করেন, ঘর থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও ইলেকট্রনিক সামগ্রীসহ প্রায় ৩৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করার পর বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
মির্জাগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম জানান, শনিবার ভোরে খবর পেয়ে তাদের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান জানান, অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা খনন যন্ত্র দিয়ে বাড়িটি ভেঙে আগুন দিয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ব্যবস্থা নিয়েছে। মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মো. রাসেল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে অভিযুক্ত শাহিন চৌধুরী হামলায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। তবে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মনির খন্দকার দাবি করেন, মিজানুর রহমান পাবলিক লাইব্রেরির জমি দখল করে ঘর তুলেছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতার বসতঘর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়ে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।


0 Comments