টানা দুই সপ্তাহ ধরে হ্রাসের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুত (এসপিআর) ১৯৮৩ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। মার্কিন জ্বালানি বিভাগের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে এই মজুত থেকে আরও ৫১ লাখ ব্যারেল তেল কমানো হয়েছে, যার ফলে বর্তমানে মোট মজুতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১ কোটি ১৪ লাখ ব্যারেলে। এর আগের সপ্তাহেও মজুত কমেছিল প্রায় ৩০ লাখ ব্যারেল।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের এই কৌশলগত মজুত থেকে ১০ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল কমানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ওয়াশিংটন মোট ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল ছাড়ার যে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, এটি তারই অংশ। মূলত হরমুজ প্রণালিতে তেল সরবরাহ ও জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি মোকাবিলায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। মার্কিন জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত প্রায় ১৩ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল তেল ছাড়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, গত ১০ জুলাই পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত মজুত মিলিয়ে মোট তেলের পরিমাণ ছিল ৭২ কোটি ৬২ লাখ ব্যারেল, যা ১৯৮৪ সালের পর সর্বনিম্ন। ১৯৭০-এর দশকের বৈশ্বিক তেল সংকটের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র এই কৌশলগত মজুত ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। বর্তমানে মেক্সিকো উপসাগরীয় উপকূলের ভূগর্ভস্থ লবণ গুহায় এই তেল সংরক্ষণ করা হয়, যার সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা প্রায় ৭১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল।
যুক্তরাষ্ট্রে তেলের মজুত ১৯৮৩ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে তেল ছাড়ছে ওয়াশিংটন। বর্তমানে মজুত ৩১ কোটি ১৪ লাখ ব্যারেল।


0 Comments