পাবনার ঈশ্বরদীতে এক শিক্ষার্থীকে চড় মারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঝর্ণা খাতুন সাথী নামে এক স্কুল শিক্ষিকাকে ওড়না পেঁচিয়ে টেনে হিঁচড়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার লক্ষীকুান্ডার চরকুড়ুলিয়া এলাকার সেলিম রেজা আদর্শ বিদ্যানিকেতনে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। এই হামলায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শামিমা নাসরিন (২৮) ও সেলিনা বেগম (৫০) নামের আরও দুই নারী গুরুতর আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে ধর্মীয় শিক্ষক ঝর্ণা খাতুন সাথীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক সালাহউদ্দিন ইউসুফ নিবিড় জানিয়েছেন, আহত শিক্ষিকার অবস্থা প্রথমে আশঙ্কাজনক থাকলেও বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল খাতুন পড়া না পারায় বিদ্যালয়ের পরিচালক সেলিম রেজা তাকে একটি চড় মারেন। এর জেরে শিক্ষার্থীর মা লিপি খাতুন বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষকদের গালিগালাজ ও হুমকি দিয়ে যান। এর কিছুক্ষণ পরই স্থানীয় মৃত বক্কার মালের ছেলে মো. উজ্জল মাল ও তার ছেলে বাসীর মাল বিদ্যালয়ে ঢুকে শিক্ষকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শী আল আমিন জানান, হামলাকারীরা বিদ্যালয়ের পরিচালক সেলিম রেজাকে না পেয়ে শিক্ষিকা ঝর্ণা খাতুনকে ওড়না পেঁচিয়ে মাটিতে ফেলে টেনে হিঁচড়ে বিদ্যালয়ের বাইরে নিয়ে যায়। বেধড়ক মারধরের একপর্যায়ে ওই শিক্ষিকা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সেলিম রেজা জানান, সামান্য শাসনের জেরে এমন ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ আশাদুর রহমান জানান, বিদ্যালয়ে শিক্ষককে মারপিটের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পাবনার ঈশ্বরদীতে শিক্ষার্থীকে চড় মারার জেরে স্কুল শিক্ষিকাকে ওড়না পেঁচিয়ে টেনে হিঁচড়ে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। গুরুতর আহত শিক্ষিকা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশ আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে।


0 Comments