গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত সোমবার রাতে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন বাটি গ্রামের আশরাফ খন্দকার, তাইড় গ্রামের রবিউল ইসলাম এবং বোনারপাড়া গ্রামের শাহ আলম। তারা স্থানীয় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী হিসেবে পরিচিত। সাঘাটা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) পবিত্র কুমার মঙ্গলবার বিকেলে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ জুন রোববার বিকেলে সাঘাটার বোনারপাড়া চারমাথা এলাকায় সাইফুল্লাহ বারীকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ইউনিয়ন যুবদলের তৎকালীন আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান ও তার সহযোগীরা সাইফুল্লাহর ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে বুক ও পেটে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের পরিবার ৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করে সাঘাটা থানায় মামলা করেছে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান ওরফে মুকুল, তার ভাই পলাশ ও মোনারুল ইসলাম।
এদিকে সাইফুল্লাহ হত্যার প্রতিবাদে গাইবান্ধা ও ঢাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ছাত্রশিবির। অন্যদিকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে অভিযুক্ত মোখলেছুর রহমানকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে জেলা যুবদল। গত সোমবার বিকেলে জানাজা শেষে বোনারপাড়া সরকারি কবরস্থানে সাইফুল্লাহর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সাঘাটা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) পবিত্র কুমার জানান, ঘটনার দিনই একজনকে আটক করা হয়েছিল এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার প্রধান আসামিসহ পলাতক অন্যদের ধরতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
গাইবান্ধার সাঘাটায় ইউনিয়ন ছাত্রশিবির সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী হত্যা মামলায় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলার প্রধান আসামিসহ অন্যদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।


0 Comments