কক্সবাজারের টেকনাফে বনভূমি দখল করে পাহাড়ের পাদদেশে গড়ে ওঠা হাজার হাজার বসতিতে পাহাড় ধসের চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী ও রোহিঙ্গাদের যোগসাজশে বন বিভাগের প্রায় ২০ হাজার একর ভূমি অবৈধভাবে দখল করে এসব বসতি স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে টানা বর্ষণের ফলে এসব এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলো মৃত্যুঝুঁকিতে রয়েছে। টেকনাফ আবহাওয়া অফিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তা শফিউল ইসলাম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় উপজেলায় ১১৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। প্রবল বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পাহাড় ধসের আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠেছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনিক চৌধুরী জানিয়েছেন, পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। অন্যদিকে, টেকনাফ রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ জানান, বনভূমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনার তালিকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলেই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে এবং নতুন করে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের জুন মাসে টেকনাফে ভয়াবহ পাহাড় ধসে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং ও তালিকা তৈরির কাজ করা হলেও স্থায়ী উচ্ছেদে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। ফলে বনভূমি উজাড় হওয়ার পাশাপাশি জানমালের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে।
টেকনাফে বনভূমি দখল করে গড়ে ওঠা ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতে পাহাড় ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভারী বর্ষণের মুখে প্রশাসন মাইকিং করলেও স্থায়ী উচ্ছেদ না হওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।


0 Comments