ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে নিজেদের অনড় অবস্থানের কথা নতুন করে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি দাবি করেছেন, এই প্রতিরক্ষা সক্ষমতা না থাকলে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র মিলে ইরানকে গাজার মতোই ধ্বংসস্তূপে পরিণত করত। একই সঙ্গে তিনি দৃঢ়ভাবে ঘোষণা দিয়েছেন যে, দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তেহরান কোনো অবস্থাতেই কারো সাথে আলোচনায় বসবে না।
সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়ার তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার পাকিস্তান সফরকালে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এসব মন্তব্য করেন। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটাতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান আলোচনায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। পেজেশকিয়ান বলেন, আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষেপণাস্ত্র না থাকলে শত্রুরা বৃদ্ধ বা শিশু কাউকেই রেহাই দিত না। তাই কোনো পরিস্থিতিতেই এই সক্ষমতা নিয়ে সমঝোতা করা হবে না।
এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ নিশ্চিত করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া প্রাথমিক চুক্তিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত নেই। মূলত ১৯৮০-এর দশকে ইরাকের সাথে যুদ্ধের সময় আকাশ প্রতিরক্ষার দুর্বলতা কাটাতে ইরান এই ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি শুরু করেছিল। বর্তমানে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর নির্ভুলতা ও পাল্লা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে, যা ইসরায়েল নিজেদের জন্য হুমকি মনে করে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে ইরানও পাল্টা শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছিল। তবে ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানে কিছুটা নমনীয়তা দেখা গেছে। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে তিনি মন্তব্য করেন যে, অন্য দেশগুলোর এই সক্ষমতা থাকলে ইরানকে তা থেকে বঞ্চিত করা হয়তো পুরোপুরি ন্যায্য হবে না।
ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা না থাকলে ইরানকে গাজার মতো ধ্বংস করে দিত ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। পাকিস্তান সফরে গিয়ে প্রতিরক্ষা ইস্যুতে তেহরানের অনড় অবস্থানের কথা জানালেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।


0 Comments