হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তেহরানের অনুমতি ছাড়া বা নির্ধারিত রুটের বাইরে কোনো জাহাজ এই প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করলে যেকোনো পরিণতির জন্য তারা নিজেরাই দায়ী থাকবে বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে ২১ মাইল প্রশস্ত এই জলপথে তিনটি পৃথক রুট তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উত্তরের রুটটি ইরান নিয়ন্ত্রণ করছে, মাঝখানের রুটটি যুদ্ধের আগে ব্যবহৃত হতো এবং দক্ষিণ দিকের রুটটি ওমান উপকূলের কাছাকাছি অবস্থিত। সমুদ্রপথে ঝুঁকি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মারিস্কস-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দিমিত্রিস মানিয়াতিস এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত বিপজ্জনক ও বিভ্রান্তিকর বলে অভিহিত করেছেন। সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত এভার লাভলি নামের একটি জাহাজে ড্রোন হামলার পর আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) তাদের সমন্বিত উদ্ধার অভিযান স্থগিত করেছে। এর ফলে পারস্য উপসাগরে আটকে পড়া পাঁচ শতাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ ও ১১ হাজারের বেশি নাবিকের উদ্ধার প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তায় পড়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা ভিন্ন ব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করবে। অন্যদিকে, বিশ্বব্যাপী পণ্য পরিবহনের তথ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের বিশ্লেষক ম্যাথিউ রাইট জানান, ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চললেও রুট ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা ও অনিরাপদ পরিস্থিতির আশঙ্কা কাটেনি।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারি ও তিন রুটের বিভ্রান্তিতে চরম ঝুঁকিতে বাণিজ্যিক জাহাজ। ড্রোন হামলার পর উদ্ধার অভিযান স্থগিত করেছে আইএমও।


0 Comments