রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিজ্ঞানের প্রতি তার গভীর অনুরাগ ও আধুনিক বিজ্ঞানের সঙ্গে তার চিন্তার সেতুবন্ধন নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। ১৮৬১ সালের ৭ মে কলকাতার জোড়াসাঁকোয় জন্মগ্রহণ করা এই মহাকবি কেবল সাহিত্য নয়, বিজ্ঞানের নানা শাখায়ও গভীর কৌতূহল পোষণ করতেন। শৈশবে পিতার কাছে জ্যোতির্বিজ্ঞানের দীক্ষা এবং পরবর্তীতে জীববিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ তাকে মহাবিশ্বের রহস্য অনুসন্ধানে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী রবীন্দ্রনাথের কাব্যিক চিন্তা ইউরোপের অনেক বিজ্ঞানী ও দার্শনিককে বিস্মিত করেছিল। ১৯৩৭ সালে তিনি ‘বিশ্ব-পরিচয়’ নামে একটি বিজ্ঞানভিত্তিক গ্রন্থ রচনা করেন, যা তিনি প্রখ্যাত বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসুকে উৎসর্গ করেন। এই গ্রন্থে তিনি পরমাণুলোক, নক্ষত্রলোক ও সৌরজগতের মতো জটিল বিষয়গুলো সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করেছেন। সে সময় বাংলায় বিজ্ঞানের বইয়ের অভাব দূর করতে তার এই প্রচেষ্টা ছিল অনবদ্য।
রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে তৎকালীন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। ১৯২৮ সালে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী ওয়ার্নার হাইজেনবার্গ কলকাতায় কবির সঙ্গে দেখা করেন। হাইজেনবার্গ পরবর্তীতে স্বীকার করেছিলেন যে, আপেক্ষিকতা ও ভৌত বাস্তবতার মৌলিক দিকগুলো বুঝতে রবীন্দ্রনাথের দার্শনিক ধারণা তাকে সহায়তা করেছিল। এছাড়া আলবার্ট আইনস্টাইনের সঙ্গেও তার বাস্তবতার প্রকৃতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছিল। নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী ইলিয়া প্রিগোজিন উল্লেখ করেছেন যে, বিজ্ঞানের বর্তমান বিবর্তন রবীন্দ্রনাথের নির্দেশিত পথেই এগোচ্ছে।
পরিবেশ ও প্রকৃতি নিয়েও রবীন্দ্রনাথের ভাবনা ছিল সুদূরপ্রসারী। নগরায়ণের বিরূপ প্রভাব উপলব্ধি করে তিনি শান্তিনিকেতনে তপোবনের আদর্শ ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন। বৃক্ষ বন্দনা ও প্রকৃতির সঙ্গে মানব চেতনার একীভূত হওয়ার বিষয়ে তার গভীর বিশ্বাস ছিল। রবীন্দ্রমননে বিজ্ঞান ও ভারতীয় ঐতিহ্যের এই সমন্বয় আধুনিক জীবন ও দর্শনের জন্য এক অনন্য দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকীতে বিজ্ঞানের প্রতি তার গভীর অনুরাগ ও বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানীদের সঙ্গে তার দার্শনিক বিনিময়ের নানা অজানা দিক নিয়ে বিশেষ আয়োজন।

0 Comments