অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অবস্থিত ‘অস্ট্রেলিয়ান সেন্টার ফর দ্য মুভিং ইমেজ’ (এসিএমআই) শিশুদের মানসিক বিকাশে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে। ‘কিডস ফ্লিকস উইথ ফিলিংস’ নামক এই বিশেষ চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে শিশুদের সহানুভূতি ও আবেগময় বুদ্ধিমত্তা শেখানো হচ্ছে। এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য হলো শিশুদের ভয়, আনন্দ বা দুঃখের মতো বড় আবেগগুলোকে চিনতে ও বুঝতে সাহায্য করা।
এসিএমআইয়ের জ্যেষ্ঠ কিউরেটর রিস গুডউইন জানান, চলচ্চিত্রের সার্থকতা নিহিত থাকে সহানুভূতির মধ্যে। পর্দার চরিত্রের কষ্ট দেখে যখন কোনো শিশু আবেগপ্রবণ হয়, তখনই সে অন্যের দুঃখ ভাগ করে নেওয়ার শিক্ষা পায়। স্কুল ছুটির এই আয়োজনে প্রদর্শনী শেষে শিশুদের ‘অ্যাকটিভিটি কিট’ দেওয়া হয় যাতে তারা ঘরে ফিরেও সিনেমার বিষয়বস্তু নিয়ে ভাবতে পারে।
প্রদর্শনীতে ‘ইটি দ্য এক্সট্রা টেরেস্ট্রিয়াল’, ‘ইনসাইড আউট ২’, ‘কোকো’ এবং ‘ল্যাবিরিন্থ’-এর মতো কালজয়ী সিনেমাগুলো দেখানো হচ্ছে। এসব চলচ্চিত্র শিশুদের দুশ্চিন্তা জয় করা, পূর্বপুরুষদের সম্মান জানানো এবং ভয়কে জয় করার সাহস জোগায়। সিডনির প্রবাসী বাংলাদেশি মনোবিজ্ঞানী জন মার্টিন মনে করেন, জীবনমুখী চলচ্চিত্র বা নাটক শিশুদের সম্পর্কের গভীরতা বুঝতে এবং সামাজিক বিকাশে সহায়তা করে।
অভিভাবকদের মতে, সিনেমা এখন কেবল বিনোদন নয়, বরং সন্তানদের সাথে যোগাযোগের একটি বড় মাধ্যম। গবেষকরা বলছেন, শব্দ ও দৃশ্যের সমন্বয়ে চলচ্চিত্র শিশুদের মনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। তাই স্ক্রিন টাইম নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে শিশুরা কী দেখছে এবং তা থেকে কী শিখছে, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মেলবোর্নের এসিএমআই-তে শুরু হয়েছে শিশুদের জন্য বিশেষ চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। সিনেমার মাধ্যমে শিশুদের সহানুভূতি ও আবেগময় বুদ্ধিমত্তা শেখানোই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। যা শিশুদের মানসিক বিকাশে সহায়ক হবে।
সূত্র: প্রথম আলো

0 Comments