কক্সবাজারের উখিয়ার টাইপালং গ্রামে দেয়ালে জয়বাংলা স্লোগান লেখাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধে সৈয়দা খাতুন (৫০) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের সময়োচিত পদক্ষেপের অভাবে পরিস্থিতি সহিংসতায় রূপ নিয়েছে।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার রাতে সৈয়দা খাতুনের ছেলে আব্দুর রহমান ও তাঁর বন্ধু ইউনুসের ওপর হামলা চালায় একদল লোক। ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে সৈয়দা খাতুনকেও মারধর করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৩০ এপ্রিল। টাইপালং মাদ্রাসা ও আশপাশের দেয়ালে ‘জয়বাংলা’ ও ‘খেলা শুরু’সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি আব্দুল করিম থানায় অভিযোগ দিলে অভিযুক্ত পরিবারগুলোর ওপর চাপ বাড়তে থাকে। নিহতের ছেলে আব্দুর রহমানের দাবি, আব্দুল করিম ও মিজান সিকদারসহ তাঁদের সহযোগীরা এই হামলা চালিয়েছেন।
এদিকে পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, তদন্তের দায়িত্বে থাকা এসআই ইনুমং মারমা কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তবে উখিয়া থানার ওসি মুজিবুর রহমান দাবি করেছেন, স্লোগান লেখা ও নারী মৃত্যুর ঘটনার মধ্যে সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।
এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে রবিবার উখিয়ায় সড়ক অবরোধ ও কক্সবাজার শহরে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজায় অংশ নিয়ে বিএনপি ও জামায়াত নেতারা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। অন্যদিকে অভিযুক্তরা সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। বর্তমানে অভিযুক্ত কয়েকজন পলাতক রয়েছেন।
উখিয়ার টাইপালং গ্রামে দেয়ালে জয়বাংলা স্লোগান লেখাকে কেন্দ্র করে বিরোধে প্রাণ হারিয়েছেন সৈয়দা খাতুন নামের এক মা। পুলিশের গাফিলতির অভিযোগ তুলে বিচারের দাবিতে উত্তাল এলাকা। দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

0 Comments