সিলেট ও সুনামগঞ্জে পরিবেশ ও আইন মেনে সীমিত আকারে পাথর কোয়ারি ইজারা দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত আলোচনা শুরু করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে একটি সমন্বিত জরিপ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এই তথ্য জানান।
মন্ত্রী জানান, সিলেট বিভাগীয় কমিশনারকে আহ্বায়ক করে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হচ্ছে। এই কমিটিতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদপ্তর, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, জিওলজিক্যাল সার্ভে অব বাংলাদেশ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা থাকবেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় দুই জেলার পুলিশ সুপারকেও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বৈঠকে জানানো হয়, জাফলং, বিছানাকান্দি, ভোলাগঞ্জ ও সাদা পাথরের মতো পর্যটন সম্ভাবনাময় এলাকাগুলো সংরক্ষণের বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। সংরক্ষিত এলাকা বাদ দিয়ে কোথায় পরিবেশ রক্ষা করে পাথর উত্তোলন করা যায়, তা নির্ধারণ করবে এই কমিটি। এছাড়া ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় নদী ভাঙন ও পানিপ্রবাহের ঝুঁকি আছে কি না এবং কত গভীরতা পর্যন্ত পাথর উত্তোলন নিরাপদ, সে বিষয়েও সুপারিশ করবে কমিটি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, পাথর কোয়ারি নিয়ে উচ্চ আদালতের বিভিন্ন আদেশ ও রায় রয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় ও অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের সঙ্গে সমন্বয় করে এসব আইনি বিষয় নিষ্পত্তি করা হবে। চলতি মাসের শেষ নাগাদ কমিটির প্রতিবেদন পাওয়া গেলে জুনের প্রথম সপ্তাহে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সিলেট ও সুনামগঞ্জে পরিবেশ রক্ষা ও পর্যটন এলাকা অক্ষত রেখে সীমিত পরিসরে পাথর উত্তোলনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে জরিপ করতে বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

0 Comments