বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কম হওয়ায় ব্যক্তিগত ব্যবহারের পাশাপাশি বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও এই যানবাহনের চাহিদা তৈরি হচ্ছে। বিআরটিএ-র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৪ মে পর্যন্ত দেশে ৬৬৯টি বৈদ্যুতিক যান নিবন্ধিত হয়েছে।
ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, জ্বালানি চালিত গাড়ির তুলনায় বৈদ্যুতিক গাড়িতে খরচ অনেক কম। একজন ব্যবহারকারী জানান, আগে মাসে জ্বালানি বাবদ ৪০ হাজার টাকা খরচ হলেও এখন বিদ্যুৎ বিল ও সামান্য তেল মিলিয়ে মাত্র ৬ হাজার টাকায় গাড়ি চালানো সম্ভব হচ্ছে। বাণিজ্যিক চার্জিং স্টেশনে প্রতি কিলোমিটারে খরচ পড়ছে সাড়ে ৩ থেকে ৪ টাকা, যেখানে তেলের গাড়িতে খরচ হয় প্রায় ১৩ টাকা।
দেশের অভ্যন্তরেও বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরির প্রস্তুতি চলছে। চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজ প্রায় ১ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা বিনিয়োগে কারখানা স্থাপন করেছে, যেখানে জুলাই মাস থেকে উৎপাদন শুরু হতে পারে। এছাড়া রানার অটোমোবাইলস চীনের বিওয়াইডি ব্র্যান্ডের গাড়ি সরবরাহ ও উৎপাদনের জন্য চুক্তি করেছে।
সরকারও এই খাতকে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন নীতিসহায়তা দিচ্ছে। বৈদ্যুতিক গাড়ির আমদানিতে শুল্কছাড়, নিবন্ধন ফি কমানো এবং কেনার ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যাংক ঋণের সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সরকারি সংস্থাগুলোর ৩০ শতাংশ গাড়ি বৈদ্যুতিক করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে ৩৮টি চার্জিং স্টেশন থাকলেও আগামী পাঁচ বছরে তা ৫ হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
জ্বালানি খরচ কমিয়ে পরিবেশ রক্ষায় বাংলাদেশে জনপ্রিয় হচ্ছে বৈদ্যুতিক গাড়ি। তেলের তুলনায় প্রতি কিলোমিটারে খরচ কমছে কয়েক গুণ। সরকারি শুল্কছাড় ও দেশীয় উৎপাদনের উদ্যোগে এই খাতে আসছে বড় পরিবর্তন।

0 Comments