কক্সবাজার জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিদিন নতুন নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি হওয়ায় অভিভাবকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু ও কিশোর-কিশোরী। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সময়মতো নির্ধারিত টিকা না নেওয়া, অপুষ্টি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাবের কারণে এই অত্যন্ত সংক্রামক রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বর্তমানে কক্সবাজারের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামে আক্রান্ত রোগীদের বিশেষ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোগীরা মূলত তীব্র জ্বর, শরীরে লালচে দানা, চোখ লাল হওয়া এবং শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ইতিমধ্যে তাদের টিকাদান ও মাঠপর্যায়ের নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করেছে। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) পাশাপাশি আক্রান্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ ক্যাম্পেইন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শিশুদের নির্ধারিত সময়ে 'এমআর' (হাম ও রুবেলা) টিকা নিশ্চিত করার জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ হলেও সঠিক সময়ে টিকা গ্রহণ করলে এ থেকে শতভাগ সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব। সংক্রমণ রোধে লক্ষণ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়া এবং অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
কক্সবাজারে শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। সংক্রমণ রোধে টিকাদান ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে স্বাস্থ্য বিভাগ। শিশুদের সুরক্ষায় অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

0 Comments