বাংলাদেশে অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের কারণে ২০২৩ সালে প্রায় ২৪ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) প্রবন্ধ এবং ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশনের (আইএইচএমই) তথ্যের ভিত্তিতে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। বুধবার (১৩ মে) বিশ্ব লবণ সচেতনতা সপ্তাহ উপলক্ষে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রশিক্ষণ কক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা এসব তথ্য জানান।
সেমিনারে জানানো হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ৫ গ্রামের কম লবণ গ্রহণ করা উচিত। তবে বাংলাদেশে বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, এদেশের মানুষ গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৯ গ্রাম লবণ গ্রহণ করেন, যা নির্ধারিত সীমার প্রায় দ্বিগুণ। অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের ফলে উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ছে, যা অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান কারণ।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার মানুষ অসংক্রামক রোগে মারা যায়, যা মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশ। এর মধ্যে এককভাবে হৃদরোগেই ৩৪ শতাংশ মানুষের মৃত্যু হয়। বিশেষজ্ঞরা জানান, উচ্চ সোডিয়ামযুক্ত খাদ্যাভ্যাস এই অকাল মৃত্যুর জন্য দায়ী।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় রান্নায় লবণের ব্যবহার কমানো এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারে সোডিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে শিল্পখাতে নীতিমালা প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এছাড়া স্বাদের বিকল্প হিসেবে রসুন, আদা, লেবু ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক মসলা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকারের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফারুক আহমেদ।
বাংলাদেশে অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের কারণে বছরে প্রায় ২৪ হাজার মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। ডাব্লিউএইচওর সুপারিশের চেয়ে দ্বিগুণ লবণ খাচ্ছে এদেশের মানুষ, যা হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।

0 Comments