পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাক্ষী হলো রাজ্যবাসী। ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৬টিতে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় বসতে যাচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। অন্যদিকে, দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসন শেষে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস; তারা পেয়েছে মাত্র ৮০টি আসন। এছাড়া বাম-আইএসএফ জোট ও কংগ্রেস পেয়েছে ২টি করে আসন।
নির্বাচনের এই ফলাফল ঘোষণার পরপরই রাজ্যজুড়ে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। সচিবালয় নবান্নসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র যাতে নষ্ট বা পাচার না হয়, সেজন্য সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নবান্নের প্রতিটি প্রবেশপথে এখন কড়া পাহারা দিচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা। সরকারি সূত্র মতে, নবান্নে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় প্রত্যেক ব্যক্তিকে তল্লাশির আওতায় আনা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষের মতে, রাজ্যে শিল্পায়নের অভাব, সিঙ্গুরে টাটা প্রকল্পের বিরোধিতা এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের অভিযোগই এই পতনের মূল কারণ। এছাড়া নির্বাচনের আগে তৃণমূলের পক্ষ থেকে করা বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্য ও প্রচারণাও ভোটারদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে তরুণদের কর্মসংস্থানের পরিবর্তে কেবল ভাতার রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ রাখার বিষয়টিও বুমেরাং হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিজেপির এই ঐতিহাসিক জয়ে রাজ্যজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। গেরুয়া আবির ও মিষ্টি বিতরণের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে মাছ-মাংস ও বিরিয়ানির ভোজের আয়োজন করেছেন বিজেপি কর্মীরা। তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিজেপি এলে মাছ-ভাত খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে বলে যে প্রচার চালানো হয়েছিল, তার প্রতিবাদেই এই প্রতীকী আয়োজন করা হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয় পেয়েছে বিজেপি। ২৯৪ আসনের মধ্যে ২০৬টিতে জিতে ক্ষমতায় বসছে গেরুয়া শিবির। তৃণমূলের ভরাডুবিতে নবান্নে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

0 Comments