ইরানের খাড়গ দ্বীপের উপকূলে তেলের আস্তরণ তৈরির খবরকে বাস্তবতা বিবর্জিত ও ভুয়া বলে দাবি করেছেন দেশটির তেল টার্মিনাল কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহী আব্বাস আসাদরোজ। তিনি জানান, খবরটি পাওয়ার পরপরই স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, রাসায়নিক বিভাগ ও ল্যাবরেটরির বিশেষজ্ঞ দল পুরো এলাকা পর্যবেক্ষণ করেছে, কিন্তু দূষণের সামান্যতম চিহ্নও পাওয়া যায়নি।
আসাদরোজের মতে, আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের মিমাক সেন্টার অথবা ইরান কারো কাছেই এই এলাকায় দূষণ সংক্রান্ত কোনো রিপোর্ট নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে দক্ষিণ-পূর্বে যে গতিতে বাতাস বইছে, তাতে কোনো আস্তরণ থাকলে তা উপকূলের দিকে আসার কথা ছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে কনফ্লিক্ট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট অবজারভেটরি নামক একটি এনজিওর করা পোস্টের সমালোচনা করে তিনি এই মন্তব্য করেন। ওই সংস্থাটি দাবি করেছিল, একটি অজ্ঞাত উৎস থেকে তৈরি তেলের আস্তরণ দক্ষিণ দিকে ছড়িয়ে পড়ছে।
এদিকে, বুশেহরের প্রতিনিধি জাফর পুরকাবগানি ইরানের পার্লামেন্টে সমুদ্রে তেল নিঃসরণের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তবে তিনি দাবি করেছেন, এই দাগগুলো মূলত একটি ইউরোপীয় ট্যাঙ্কার থেকে সমুদ্রে ফেলা বর্জ্য ও তেলের মিশ্রণ, যা পরিবেশের ক্ষতি করছে।
উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগরে সামুদ্রিক জরুরি অবস্থায় পারস্পরিক সহায়তা কেন্দ্র মিমাক হলো এই অঞ্চলে তেল ও অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থের কারণে সৃষ্ট দূষণ মোকাবিলায় প্রধান আঞ্চলিক সংস্থা। এটি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ইরানের খাড়গ দ্বীপের উপকূলে তেলের আস্তরণ তৈরির খবরকে ভুয়া বলে দাবি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। বিশেষজ্ঞ দলের পর্যবেক্ষণে দূষণের কোনো প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

0 Comments