আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাসের নতুন প্রাদুর্ভাবে অন্তত ৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সতর্ক করে জানিয়েছে, বর্তমানে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসের কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। অত্যন্ত ছোঁয়াচে এই রক্তক্ষরা জ্বরে আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে আরও ৩৩৬ জনকে।
আফ্রিকার রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি আফ্রিকা) তথ্য অনুযায়ী, ইবোলার এই ধরনটি ‘বুনদিবুগিও’ নামে পরিচিত, যাতে মৃত্যুর হার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্যামুয়েল-রজার কাম্বা জানিয়েছেন, এই ধরনে আক্রান্তদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা ব্যবস্থা এখনও নেই। ইতিমধ্যে প্রতিবেশী দেশ উগান্ডাতেও এই ভাইরাসে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যিনি কঙ্গোর নাগরিক ছিলেন।
চিকিৎসা সহায়তাকারী সংগঠন ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ) এই পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ বলে অভিহিত করেছে। সংস্থাটি পরিস্থিতি সামাল দিতে বড় পরিসরে প্রস্তুতি নিচ্ছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহ ধরে আক্রান্ত ব্যক্তিরা বাড়িতেই মারা যাচ্ছেন এবং মৃতদেহ সৎকার করছেন পরিবারের সদস্যরা। গত ২৪ এপ্রিল এক নার্সের মাধ্যমে এই প্রাদুর্ভাবের সূচনা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, কঙ্গোর যোগাযোগব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় দুর্গম এলাকায় চিকিৎসাসামগ্রী পৌঁছানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। উল্লেখ্য, ইবোলা ভাইরাস সাধারণত বাদুড় থেকে ছড়ায় এবং আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল পদার্থের সরাসরি সংস্পর্শে এলে অন্যরাও সংক্রমিত হয়। লক্ষণ প্রকাশ পেতে ২১ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে এবং এর প্রধান উপসর্গগুলো হলো জ্বর, রক্তক্ষরণ ও বমি হওয়া।
কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাসের নতুন প্রাদুর্ভাবে ৮০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই ভাইরাসের কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই বলে সতর্ক করেছে দেশটির সরকার। অত্যন্ত ছোঁয়াচে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।

0 Comments