ভারতের অসম রাজ্যে বিজেপি সরকার বহুল আলোচিত ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল পেশ করেছে। এই বিলের মাধ্যমে বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার এবং লিভ-ইন সম্পর্ককে একটি একক আইনি কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, সমতা ও লিঙ্গ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই এই বিলের মূল লক্ষ্য।
বিলের উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে বহুবিবাহ নিষিদ্ধকরণ। নতুন আইন অনুযায়ী বহুবিবাহের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া শিশুবিবাহ ও জোরপূর্বক বিবাহ রোধে কঠোর শাস্তির প্রস্তাব করা হয়েছে, যা নারী সুরক্ষা ও প্রতারণা রোধে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে বিলের অন্যতম বিতর্কিত বিষয় হলো লিভ-ইন সম্পর্কের বাধ্যতামূলক নিবন্ধন। প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, লিভ-ইন সম্পর্কে থাকা ব্যক্তিদের ৩০ দিনের মধ্যে তা নিবন্ধন করতে হবে। সরকার একে সঙ্গীর আইনি সুরক্ষা হিসেবে দেখলেও সমালোচকরা একে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার লঙ্ঘন ও নজরদারি হিসেবে অভিহিত করছেন।
ধর্মভিত্তিক ব্যক্তিগত আইন সরিয়ে একক কাঠামো চালুর এই প্রচেষ্টা ভারতের সাংবিধানিক বহুত্ববাদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও তফশিলি উপজাতিদের এই বিলের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় স্তরে ইউসিসি বাস্তবায়নের যে লক্ষ্য বিজেপির রয়েছে, অসমের এই উদ্যোগ তারই একটি অংশ। এই বিলের সাফল্য ও গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করবে এর বাস্তব প্রয়োগ এবং সামাজিক প্রভাবের ওপর।
অসমে পেশ হলো অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল। বহুবিবাহে ৭ বছরের জেল ও লিভ-ইন সম্পর্কের বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের বিধান রাখা হয়েছে এই বিলে। সমতা ও নারী সুরক্ষার দাবি সরকারের, তবে শুরু হয়েছে বিতর্ক।

0 Comments