বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম ১০০ দিনে সাংবাদিকদের ঢালাওভাবে কোনও নতুন বিচারের মুখোমুখি করা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া রাজনৈতিক ও হয়রানিমূলক মামলাগুলো পর্যালোচনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে আইন ও তথ্য মন্ত্রণালয়। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া হবে এবং কোনও সাংবাদিককে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আইনি হয়রানি করা হবে না।
তদন্ত কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগের মামলায় অনেক সাংবাদিককে দীর্ঘদিন কারাগারে রাখা হলেও এখন পর্যন্ত কোনও মামলায় তাদের অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করা হয়নি। তবে ‘নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্ট’-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সারা দেশে প্রায় ৫০০ মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় ৪৭ জন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার, ১৩ জনকে হত্যা এবং প্রায় ১২০০ সাংবাদিককে চাকরিচ্যুত করার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া ১৬৮ জন সাংবাদিকের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড এবং ৭ শতাধিক সাংবাদিকের সদস্যপদ বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে এক বৈঠকে জানিয়েছেন, সরকার গণমাধ্যমের নিয়ন্ত্রক হিসেবে নয়, বরং সহায়তাকারী হিসেবে কাজ করতে চায়। তিনি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানির মামলাগুলোর বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দিয়েছেন। বর্তমানে শাকিল আহমেদ, ফারজানা রুপা, মোজাম্মেল হক বাবু ও শ্যামল দত্তসহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিক কারাগারে রয়েছেন। সাংবাদিক নেতারা বলছেন, নতুন সরকারের ১০০ দিনে নির্যাতন-নিপীড়ন আগের তুলনায় কমলেও আটক সাংবাদিকদের জামিন না হওয়া এবং গণমাধ্যমকর্মীদের কোণঠাসা অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে। তারা প্রত্যাশা করেন, সরকার ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে গণমাধ্যমের পূর্ণ বাক্ স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে।
বিএনপির ১০০ দিনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নতুন কোনো মামলা হয়নি। হয়রানিমূলক মামলা পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সুরক্ষা নিশ্চিতের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

0 Comments