পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও সংগঠিত করতে প্রতিটি জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। গত ২৩ মে রাইটার্স বিল্ডিংয়ের ফরেনার্স শাখা থেকে এ বিষয়ে সব জেলা প্রশাসকের কাছে জরুরি নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার ও অনুপ্রবেশ রোধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আটক ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে যোগাযোগসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের এসব কেন্দ্রে রাখা হবে।
পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অবৈধ অনুপ্রবেশ মোকাবিলায় ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ নীতি অনুসরণের কথা বলে আসছে। এই প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপে অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করা হবে, এরপর সরকারি নথি থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়া হবে এবং সবশেষে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। সরকারি সূত্র মতে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা আটককৃতদের সর্বোচ্চ ৩০ দিন পর্যন্ত এসব হোল্ডিং সেন্টারে রাখা যাবে। এছাড়া যারা আগে থেকেই আটক অবস্থায় রয়েছেন এবং যাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান, তাদেরও এসব কেন্দ্রে রাখা হবে।
প্রশাসন স্পষ্ট করেছে যে, ‘হোল্ডিং সেন্টার’ ও ‘ডিটেনশন সেন্টার’-এর মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। ডিটেনশন সেন্টার সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি আটককেন্দ্র হলেও হোল্ডিং সেন্টারকে সাময়িক ট্রানজিট কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে। অর্থাৎ ফেরত পাঠানোর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলাকালীন অস্থায়ীভাবে সেখানে রাখা হবে আটক ব্যক্তিদের। এর আগে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দিলেও তৎকালীন সরকার তা কার্যকর করেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। এই নতুন উদ্যোগকে কেন্দ্র করে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে প্রতিটি জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। সাময়িক ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহৃত হবে এই কেন্দ্রগুলো।

0 Comments