Recents in Beach

ব্রেকিং নিউজ

জুলাই সনদ কোনো দলের ইশতেহার নয় বরং এটি চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের রক্তে লেখা জাতীয় চুক্তি

জুলাই সনদ কোনো দলের ইশতেহার নয় বরং এটি চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের রক্তে লেখা জাতীয় চুক্তি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ও স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের সদস্য কাজী মারুফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর গঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ মূলত সর্বাত্মক নিয়ন্ত্রণবাদী শাসনব্যবস্থা থেকে উত্তরণের একটি আইনি ও রাজনৈতিক সেতুবন্ধ। তিনি জুলাই সনদকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ইশতেহার নয়, বরং চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের রক্তে লেখা একটি জাতীয় চুক্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন।

এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই সংসদ ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে আইনি বৈধতা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তবে সংসদের ভেতরে এখনো প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিমূলক সংস্কৃতি পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। সংস্কারের বিষয়ে তিনি পরামর্শ দেন যে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংসদের ভেতর থেকে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন করা যেতে পারে।

সরকারের প্রথম তিন মাসের মূল্যায়ন করতে গিয়ে অধ্যাপক মারুফুল ইসলাম জানান, একটি ভঙ্গুর সময়ে প্রাতিষ্ঠানিক গণতান্ত্রিক যাত্রা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করা সরকারের বড় সাফল্য। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, মব-সহিংসতা রোধ এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় আমলাতান্ত্রিক অদক্ষতা ও সিন্ডিকেট দমনে সরকারের সীমাবদ্ধতা দৃশ্যমান।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ধীর প্রবৃদ্ধির সংকটে রয়েছে। সরবরাহ লাইনে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারায় সাধারণ মানুষ বাজারমূল্যের সুফল পাচ্ছে না। এছাড়া মব জাস্টিস বা আইন হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতাকে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক বিচারব্যবস্থার ব্যর্থতার এক সহিংস বিজ্ঞাপন হিসেবে উল্লেখ করেন।

আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন এই বিশ্লেষক। তিনি মনে করেন, আগামী এক বছর বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের ওপরই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।

সংক্ষেপে:
জুলাই সনদ কোনো দলের ইশতেহার নয় বরং এটি জাতীয় চুক্তি। গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও সংস্কারের চ্যালেঞ্জ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিলেন অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম। বিস্তারিত জানুন সংবাদে।

Post a Comment

0 Comments