চট্টগ্রাম নগরীর জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ মাঠে স্লোগানে স্লোগানে বিদায় জানানো হলো রণাঙ্গণের সেনানী ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে। বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নিতে সকাল ১০টা থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মাঠে জড়ো হতে থাকেন। জানাজা শেষে মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময় হাজারো সহযোদ্ধা ও রাজনৈতিক অনুসারীরা প্রিয় নেতাকে স্মরণ করে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে মরদেহবাহী গাড়িটি মীরসরাইয়ের ধুম গ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়।
জানাজায় অংশ নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ও বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বর্ণাঢ্য রাজনীতিবিদ ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়নে অনেক অবদান রেখেছেন। উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান এবং সাবেক সিটি মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীও তার রাজনৈতিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের স্মৃতিচারণ করেন। মরহুমের সন্তান সাবেদুর রহমান তার বাবার জন্য সবার কাছে দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন। জানাজায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি ও সিপিবিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
১৯৪৩ সালে চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে জন্ম নেওয়া মোশাররফ হোসেন ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ১ নম্বর সেক্টরের সাব সেক্টর কমান্ডার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণেতাদের অন্যতম ছিলেন। মীরসরাই আসন থেকে তিনি মোট ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিভিন্ন মেয়াদে তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। আমৃত্যু তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। ২০২৪ সালের অক্টোবরে গ্রেপ্তারের পর অসুস্থ অবস্থায় ২০২৫ সালের অগাস্টে তিনি জামিনে মুক্তি পান। বৃহস্পতিবার বিকেলে মীরসরাইয়ে গার্ড অব অনার প্রদান শেষে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে।
চট্টগ্রামে জানাজা শেষে স্লোগানে স্লোগানে বিদায় জানানো হলো বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে। মীরসরাইয়ে দাফনের আগে প্রিয় নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঢল নামে সর্বস্তরের মানুষের।

0 Comments