ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পবিত্র ঈদুল আজহার কোরবানির মাংস বণ্টন পদ্ধতি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২৮ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার আলগী ইউনিয়নের পূর্ব আড়ুয়াকান্দী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের জেরে ওই গ্রামের বাসিন্দারা ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেননি এবং পশু কোরবানিও সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব আড়ুয়াকান্দী গ্রামের বাসিন্দারা মোল্লা ও মাতুব্বর— এই দুই প্রধান গ্রুপে বিভক্ত। কোরবানির পশুর মাংসের একটি অংশ দরিদ্রদের মাঝে বিতরণের নিয়ম রয়েছে। এই মাংস মসজিদ থেকে নাকি ব্যক্তিগতভাবে বাড়ি থেকে বিতরণ করা হবে, তা নিয়ে ঈদের নামাজের আগে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে কামরুজ্জামান মোল্লা ও জাহাঙ্গীর মাতুব্বরের অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
সংঘর্ষের সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয় এবং পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য মজিবর মোল্লা এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছেন।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় কোরবানির মাংস বণ্টন নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ২৮ জন আহত হয়েছেন। এই ঘটনার জেরে গ্রামবাসী ঈদের নামাজও পড়তে পারেননি। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

0 Comments