সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে বনদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় উপকূলীয় বনজীবীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সন্ধ্যা পর্যন্ত পশ্চিম সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও আটজন বনজীবীকে অপহরণের খবর পাওয়া গেছে। বনদস্যু "নানাভাই" ও "ছোট জাহাঙ্গীর" বাহিনীর সদস্যরা অস্ত্রের মুখে তাদের অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অপহৃত বনজীবীরা হলেন মুন্সিগঞ্জের নজরুল তরফদার, আব্দুর রহমান, ছোট ভেটখালীর আব্দুল হামিদ মোড়ল, ভড়ভড়িয়ার আব্দুল আলিম, হাবিবুর রহমান, আনোয়ারুল ইসলাম এবং খুলনার কয়রা এলাকার আব্দুস সাত্তার ও শাহিনুর রহমান। স্বজন ও মহাজনেরা জানান, সাতক্ষীরা রেঞ্জের চুনকুড়ি নদীর সুবদের খাল, গুবদের খাল ও ধান্যখালীর চর এলাকা থেকে তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। দস্যুরা অপহৃতদের মুক্তির বিনিময়ে জনপ্রতি ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ দাবি করছে। এই টাকা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পাঠানোর জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। এর আগেও গত ৪ ও ৫ মে ২০ জন জেলে ও মৌয়ালকে অপহরণ করা হয়েছিল, যারা প্রায় ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সুন্দরবনে যৌথ বাহিনীর অভিযান চললেও দস্যুদের দৌরাত্ম্য কমছে না। কদমতলা ফরেস্ট স্টেশন ও শ্যামনগর থানা পুলিশ জানিয়েছে, অপহরণের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তারা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে বনদস্যু বাহিনীর হাতে ৮ বনজীবী অপহৃত হয়েছেন। মুক্তিপণ হিসেবে জনপ্রতি ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে। এই ঘটনায় উপকূলীয় বনজীবীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

0 Comments