১৯৯৬ সালের ২০ মে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নাটকীয় ও উত্তপ্ত দিন হিসেবে চিহ্নিত। তৎকালীন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে দেশে একটি ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থান চেষ্টার ঘটনা ঘটেছিল। ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল ১৮ মে, যখন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাসের নির্দেশে বগুড়া সেনানিবাসের জিওসি মেজর জেনারেল হেলাল মোর্শেদ খান ও বিডিআরের উপ-মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার মিরন হামিদুর রহমানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রপতি ও তৎকালীন সেনাপ্রধান লে. জেনারেল আবু সালেহ মোহাম্মদ নাসিমের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
সেনাপ্রধান জেনারেল নাসিম এই আদেশের প্রতিবাদে তার অনুগত বাহিনীকে ঢাকার অভিমুখে মার্চ করার নির্দেশ দেন। ২০ মে ময়মনসিংহ ও বগুড়া সেনানিবাস থেকে ভারি অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত সেনাদল ঢাকার পথে রওনা হয়। অন্যদিকে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাষ্ট্রপতি সাভারের নবম পদাতিক ডিভিশন ও কুমিল্লার ৩৩ পদাতিক ডিভিশনকে নির্দেশ দেন যেন কোনো সেনাদল ঢাকায় প্রবেশ করতে না পারে। সাভারের জিওসি মেজর জেনারেল ইমামুজ্জামানের নেতৃত্বে সেনাসদস্যরা শ্রীপুর ও আরিচাঘাটে অবস্থান নিয়ে ঢাকার দিকে আসা বিদ্রোহী সেনাদলকে আটকে দেয়।
বিকেল নাগাদ ঢাকার রাস্তায় ট্যাংক চলাচল শুরু হলে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে বিকেল সাড়ে ৫টায় রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাস জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন এবং সেনাপ্রধান জেনারেল নাসিমকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর ঘোষণা দেন। রাষ্ট্রপতির কঠোর অবস্থান ও পাল্টা প্রতিরোধের মুখে সেনাপ্রধানের অনুগত বাহিনী পিছু হটতে শুরু করে এবং অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। এই ঘটনার মাত্র ২২ দিন পর ১২ জুন বাংলাদেশের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
১৯৯৬ সালের ২০ মে বাংলাদেশে এক নাটকীয় সেনা অভ্যুত্থান চেষ্টা ব্যর্থ হয়। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধানের দ্বন্দ্বের জেরে তৈরি হওয়া সেই উত্তপ্ত পরিস্থিতির বিস্তারিত ইতিহাস জেনে নিন।

0 Comments