ফিলিস্তিনের গাজাবাসীর জন্য ত্রাণ নিয়ে যাওয়া ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নৌবহরের সমাজকর্মীদের প্রতি ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভিরের উপহাস ও দুর্ব্যবহারের একটি ভিডিও বিশ্বজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনার জেরে ইসরাইলের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ইতালির মেলোনি সরকার এখন দূরত্ব বজায় রাখতে শুরু করেছে, যা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, সমাজকর্মীদের সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি মানুষের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করে। তিনি এই ঘটনার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা দাবি করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপে ইসরাইল তার অন্যতম প্রধান মিত্রকে হারানোর পথে রয়েছে। অথচ ২০২২ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে মেলোনি সরকারকে ইসরাইলের অন্যতম প্রধান সমর্থক হিসেবে বিবেচনা করা হতো।
ইতালির এই নীতি পরিবর্তনের পেছনে বেশ কিছু কারণ কাজ করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর মধ্যে ইসরাইলে খ্রিস্টান বা ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের ওপর ধারাবাহিক হেনস্থা এবং দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সেনাদের ধর্মীয় প্রতীক অবমাননার ঘটনা ইতালির সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। এছাড়া ইতালির তরুণ ভোটারদের একটি বড় অংশ, যাদের ‘গাজা প্রজন্ম’ বলা হচ্ছে, তারা সরকারের ইসরাইলপন্থি অবস্থানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইতালি সরকার ইসরাইলের সাথে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্থগিত করেছে এবং ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে। এমনকি উগ্রপন্থি ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী ও মন্ত্রী বেন গভিরের ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্যও ইতালি এখন সক্রিয়ভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি একটি সাময়িক ফাটল হতে পারে এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।
গাজায় ত্রাণবাহী কর্মীদের সাথে ইসরাইলি মন্ত্রীর দুর্ব্যবহারের ঘটনায় ক্ষুব্ধ ইতালি। দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে ফাটল ধরেছে এবং মেলোনি সরকার এখন ইসরাইলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ভাবছে।

0 Comments