চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের প্রকাশ্য তৎপরতা নতুন করে জনমনে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সংগঠনটি নিষিদ্ধ হলেও মাঠপর্যায়ে তাদের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের অফিসিয়াল ভেরিফায়েড পেজে সাতকানিয়ার খাগরিয়া ইউনিয়নে কৃষকের ধান কাটার কিছু ছবি প্রকাশিত হওয়ার পর এই আলোচনা তীব্র হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ছাত্রলীগের পরিচিত বহু নেতাকর্মী এখনো এলাকায় অবস্থান করছেন এবং কেউ কেউ প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলীয় পরিচয়ে পোস্ট এবং বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তারা নিজেদের সক্রিয়তা জানান দিচ্ছেন। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের নামে প্রকাশ্যে কর্মসূচি চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না কেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ধান কাটার ওই ছবিগুলো সাতকানিয়া উপজেলার খাগরিয়া ইউনিয়নের। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, রাজনৈতিক পালাবদলের শুরুতে অনেকে আত্মগোপনে গেলেও এখন তারা পুনরায় সক্রিয় হতে শুরু করেছেন। কেউ কেউ রাতের আঁধারে বৈঠক করছেন আবার কেউ সামাজিক কর্মকাণ্ডের আড়ালে সংগঠন পুনর্গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছেন। ছাত্রলীগের অতীত কর্মকাণ্ডের কথা স্মরণ করে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ নতুন করে আতঙ্কে রয়েছেন।
আইনজীবীদের মতে, অনলাইন প্রচারণা মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক শক্তিরই বহিঃপ্রকাশ। নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে পোস্ট দিতে পারা মানে তাদের নেটওয়ার্ক এখনো অক্ষত রয়েছে। তবে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং তারা খতিয়ে দেখছেন। তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ধান কাটার ছবিগুলো মূলত গত বছরের। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিনষ্টের চেষ্টা করলে যেকোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের প্রকাশ্য তৎপরতা ও ধান কাটার ছবি ঘিরে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। পুলিশের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। তবে পুলিশ বলছে ছবিগুলো পুরনো।

0 Comments