মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুর একটি মৌলিক ধর্ম হলো ভর। সাধারণত ধারণা করা হয়, হিগস ফিল্ডের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমেই কণাগুলো ভর প্রাপ্ত হয়। তবে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান বলছে, ভরের রহস্য কেবল হিগস ফিল্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, আমাদের দেহের বা যে কোনো বস্তুর ভরের একটি বিশাল অংশ আসলে শক্তি থেকে আসে। ১৯৬০-এর দশকে প্রস্তাবিত হিগস ক্ষেত্র তত্ত্ব অনুযায়ী, হিগস বোসন বা ঈশ্বরকণার সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার ফলে ইলেকট্রন ও কোয়ার্কের মতো উপপারমাণবিক কণাগুলো ভর পায়। ২০১২ সালে সার্নে এই কণার অস্তিত্ব প্রমাণিত হওয়ার পর ইলেকট্রোউইক তত্ত্বটি পূর্ণতা পায়। কিন্তু মজার বিষয় হলো, একটি ১০০ কেজি ওজনের মানুষের শরীরে থাকা কোয়ার্কগুলোর সম্মিলিত ভর মাত্র ২ কেজির মতো। অর্থাৎ, মোট ভরের মাত্র ২ শতাংশ আসে এই কণাগুলো থেকে। বাকি ৯৮ শতাংশ ভরের উৎস ব্যাখ্যা করেছেন বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন তার বিখ্যাত আপেক্ষিকতা তত্ত্বের মাধ্যমে। প্রোটন ও নিউট্রনের ভেতরে কোয়ার্কগুলো স্থির থাকে না, বরং আলোর গতির কাছাকাছি বেগে ছোটাছুটি করে। এই প্রচণ্ড গতিশক্তি এবং কোয়ার্কগুলোকে আটকে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তিশালী বলই মূলত ভরে রূপান্তরিত হয়। আইনস্টাইনের সমীকরণ অনুযায়ী, শক্তি ও ভর একে অপরের পরিপূরক। ফলে দেখা যাচ্ছে, আমরা যাকে কঠিন বস্তু বা ভর হিসেবে দেখি, তার সিংহভাগই আসলে শক্তির ভিন্ন রূপ।
বস্তুর ভর আসলে কোথা থেকে আসে? হিগস ফিল্ডের ভূমিকা থাকলেও ভরের প্রায় ৯৮ শতাংশই আসে শক্তি থেকে। আইনস্টাইনের তত্ত্ব অনুযায়ী শক্তি ও ভরের এই রহস্যময় সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত জানুন।

0 Comments