শেরপুরে বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুরে শহরের নিউমার্কেটস্থ আইডিইবি কার্যালয়ে নাগরিক প্ল্যাটফরম জনউদ্যোগ শেরপুর জেলা কমিটির আয়োজনে এই সভা সম্পন্ন হয়। সভায় জেলার বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের সমস্যা, সম্ভাবনা এবং তাদের কল্যাণে করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
জনউদ্যোগের আহ্বায়ক শিক্ষক মো. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. হামিদুর রহমান, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রধান সহকারী কবি হাসান শরাফত, শেরপুর প্রেসক্লাবের কার্যকরী সভাপতি রফিক মজিদ এবং উদীচী জেলা সংসদের সাবেক সভাপতি তপন সারোয়ার। সভায় বক্তারা বলেন, এই বিশেষ জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি। সরকারি কর্মসূচির পাশাপাশি বেসরকারিভাবেও তাদের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।
মতবিনিময় সভায় জনউদ্যোগের পক্ষ থেকে বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের একটি ডাটাবেজ তৈরি এবং ১০ দফা প্রস্তাবনা সম্বলিত একটি লিখিত প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- কারিগরি ও সাধারণ শিক্ষা প্রদান, কম্পিউটার, হস্তশিল্প ও পশুপালনসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থা, বাংলা ইশারা ভাষার প্রসার এবং সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে কোটা নিশ্চিত করা। এছাড়া চাহিদা অনুযায়ী শ্রবণ সহায়ক যন্ত্র প্রদান এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় তাদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়।
সভায় সরকারি কর্মকর্তারা জানান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষায় আইন রয়েছে এবং তাদের 'সুবর্ণ নাগরিক' হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় তাদের ভাতা, দক্ষতা অনুসারে কর্মসংস্থান ও ঋণের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। সভাপতির বক্তব্যে মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই এই মানবিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে তাদের উৎপাদনশীল কাজে সম্পৃক্ত করে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে হবে।
শেরপুরে বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের জীবনমান উন্নয়নে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় তাদের কল্যাণে ১০ দফা প্রস্তাবনা পেশ করা হয়। প্রতিবন্ধীদের মূল স্রোতে ফেরাতে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের দাবি জানান বক্তারা।

0 Comments