প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগের স্থগিত প্রক্রিয়া পুনরায় কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান নির্বাচিত সরকার। তবে এই নিয়োগ সরাসরি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে না হয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিশেষ ‘প্যানেল’ বা ‘ক্লাস্টার’ পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা হবে।
২০১৯ সালের নিয়োগ বিধিমালা সংশোধন করে ২০২৫ সালে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষার জন্য আলাদা সহকারী শিক্ষক পদ রাখা হলেও পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার তা বাতিল করেছিল। এর ফলে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার প্রার্থীর কর্মসংস্থানের পথ বন্ধ হয়ে যায়, যা নিয়ে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর ক্ষমতায় আসা নতুন সরকার এখন সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের পথে হাঁটছে।
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ২ হাজার ৫৮৩ জন সংগীত প্রশিক্ষক নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতিটি ‘ক্লাস্টার’ বা ২০ থেকে ২৫টি বিদ্যালয়ের জন্য একজন প্রশিক্ষক নিয়োজিত থাকবেন। তারা রুটিন অনুযায়ী প্রতিটি বিদ্যালয়ে গিয়ে পাঠদান করবেন। এই শিক্ষকদের নির্বাচন করবে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, তবে তাদের বেতন-ভাতা প্রদান করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত যোগ্য প্রার্থীর অভাব ও কৌশলগত কারণে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এই নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে। এছাড়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজও এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
অন্যদিকে, প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈতিক শিক্ষার প্রসারে প্রায় ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনাও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে সরকার। তবে সংগীত শিক্ষকদের নিয়োগের জট খুললেও শারীরিক শিক্ষা পদের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। ‘জাতীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি রক্ষা আন্দোলন’-এর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগের স্থগিত প্রক্রিয়া পুনরায় চালু করছে সরকার। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ক্লাস্টার পদ্ধতিতে এই নিয়োগ দেওয়া হবে। এছাড়া ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।

0 Comments