বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সার্কুলার অর্থনীতিতে রূপান্তর এখন আর কেবল পরিবেশগত বিষয় নয়, বরং এটি বাংলাদেশের শিল্পখাতের ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও টেকসই প্রবৃদ্ধির অন্যতম পূর্বশর্ত। বুধবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বিজিএমইএ আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বিশ্ববাজার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং টেকসই উৎপাদন এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অন্যতম নির্ধারক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সার্কুলার অর্থনীতির মাধ্যমে সম্পদের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করা, বর্জ্য হ্রাস এবং সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা জোরদার করা সম্ভব। বিশেষ করে টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস খাতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থা শিল্পখাতকে একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবে।
এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অর্থনীতিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের লজিস্টিক ব্যয় জিডিপির ১৬ শতাংশ, যা বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে বেশি। এই ব্যয় কমাতে এবং চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষতা বাড়াতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে। এছাড়া বিনিয়োগ পরিবেশ সহজ করতে ওয়ান-স্টপ সার্ভিসকে আরও কার্যকর করা এবং লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় তৈরি পোশাক, ওষুধ ও চামড়াজাত পণ্যসহ প্রতিটি পণ্যকেই টেকসই হতে হবে। পরিবেশ রক্ষা করে টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে উন্নত দেশগুলোকে অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুর রহিম খান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার ও বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।
বৈশ্বিক বাজারে টিকে থাকতে সার্কুলার অর্থনীতি ও টেকসই উৎপাদনকে গুরুত্ব দিচ্ছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। শিল্পখাতের সক্ষমতা বাড়াতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগ পরিবেশ সহজ করার ওপর জোর দেন তিনি।

0 Comments