দশ বছর আগে ঈদুল আজহার দিনে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন মংডু শহরের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী। বৃহস্পতিবার কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে। ঈদের নামাজ শেষে মোনাজাতে ছিল স্বদেশে ফেরার আকুতি এবং ২০১৭ সালে প্রাণ হারানো স্বজনদের আত্মার শান্তি কামনা। মোহাম্মদ আলীর মতো লাখো আশ্রিত মানুষ এখন নিজ দেশে ফেরার প্রহর গুনছেন।
ক্যাম্পের অধিকাংশ রোহিঙ্গা এখন মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। নিজ দেশের কোরবানির স্মৃতি চারণ করে রোহিঙ্গা শিক্ষক আব্দুল্লাহ জানান, মিয়ানমারে তারা সচ্ছল ছিলেন এবং বড় গরু কোরবানি দিতেন, কিন্তু এখন আশ্রিত জীবনে কষ্টে দিন কাটছে। গত এক দশকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রায় দুই লাখ শিশুর জন্ম হয়েছে, যাদের চোখেমুখে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাজ করছে। ইউনাইটেড কাউন্সিল ফর রোহিঙ্গা (ইউসিআর)-এর সংগঠক মোহাম্মদ ফোরকান জানান, মর্যাদার সাথে প্রত্যাবাসনই তাদের একমাত্র সমাধান এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত তাদের অধিকার নিশ্চিত করা।
রোহিঙ্গা সংকটের কারণে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর চাপ বাড়ছে বলে উল্লেখ করেছেন স্থানীয় অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রবিউল হোছাইন। তিনি জানান, প্রত্যাবাসন ছাড়া এই সংকটের আর কোনো স্থায়ী সমাধান নেই। এদিকে, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, এবারের ঈদে প্রায় ১ লক্ষ ৯৫ হাজার পরিবারকে বিভিন্ন এনজিও ও দাতা সংস্থার মাধ্যমে কোরবানির মাংস বিতরণ করা হচ্ছে।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান জানান, সহায়তা কমলেও সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রতি পরিবারকে ১ কেজি করে মাংস দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। ইউএনএইচসিআর-এর তথ্যমতে, বর্তমানে ১০ লক্ষ ৪৪ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছে, যদিও অন্যান্য পরিসংখ্যানে এই সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ বলে ধারণা করা হয়।
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে। নামাজ শেষে মোনাজাতে ছিল স্বদেশে ফেরার আকুতি। ১০ বছর ধরে আশ্রিত জীবন কাটিয়ে রোহিঙ্গারা এখন মর্যাদার সাথে নিজ দেশে ফিরতে চায়।

0 Comments