Recents in Beach

ব্রেকিং নিউজ

২৯ এপ্রিল: উপকূলবাসীর স্বজন হারানোর সেই ভয়াল ও প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের ৩৪ বছর

২৯ এপ্রিল: উপকূলবাসীর স্বজন হারানোর সেই ভয়াল ও প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের ৩৪ বছর

আজ ২৯ এপ্রিল, উপকূলবাসীর স্বজন হারানোর সেই ভয়াল দিন। ১৯৯১ সালের এই দিনে প্রলয়ঙ্করী সাইক্লোন ‘ম্যারি অ্যান’-এর প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছিল দেশের উপকূলীয় ১৯টি জেলা। ওই দিন মধ্যরাতে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, বরিশাল, পটুয়াখালী ও বরগুনাসহ উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ১২ থেকে ২০ ফুট উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস আঘাত হানে। এতে সরকারি হিসাবে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৮২ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং নিখোঁজ হন ১২ হাজার ১২৫ জন।

ভয়াবহ এই দুর্যোগে চট্টগ্রামের আনোয়ারা, বাঁশখালী, সীতাকুণ্ড ও সন্দ্বীপের পাশাপাশি কক্সবাজারের মহেশখালী, কুতুবদিয়া, কক্সবাজার সদর, চকরিয়া ও পেকুয়াসহ উপকূলের ১৩টি উপজেলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ৭০ হাজার গবাদি পশু মারা যায় এবং গৃহহীন হয় প্রায় ২০ লাখ মানুষ। সরকারি হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা বলা হলেও বাস্তবে তা আরও বেশি বলে ধারণা করা হয়।

দুর্যোগের সেই রাতে চট্টগ্রাম বন্দরের অভ্যন্তরে ও বহির্নোঙরে থাকা বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি জাহাজ বিধ্বস্ত হয়। কর্ণফুলী নদীর ওপর নির্মিত দ্বিতীয় শাহ আমানত সেতু ভেঙে পড়ে এবং বন্দরের ১০০ টন ওজনের একটি ক্রেন টুকরো টুকরো হয়ে যায়। এ ছাড়া নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর অনেক জলযান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ৩৪ বছর পার হলেও স্বজন ও বাস্তুভিটা হারানোর সেই দুঃসহ বেদনা আজও উপকূলবাসীকে তাড়া করে ফেরে।

সংক্ষেপে:
১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের ৩৪ বছর আজ। সেই ভয়াল রাতে ১২ থেকে ২০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে লণ্ডভণ্ড হয়েছিল উপকূল। লক্ষাধিক মানুষের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির সেই দুঃসহ স্মৃতি আজও অমলিন।

সূত্র: Sangbad

Post a Comment

0 Comments