মানুষের চিরন্তন ও প্রকাশ্য শত্রু শয়তান অত্যন্ত সুনিপুণভাবে অন্তরে সংশয়, মন্দ চিন্তা আর অন্যায়ের প্ররোচনা তৈরি করে। এই অদৃশ্য শত্রুর ফাঁদ থেকে বেঁচে থাকা এবং আত্মিক পবিত্রতা বজায় রাখা মুমিনের অন্যতম বড় সংগ্রাম। শয়তানের কুমন্ত্রণা বা ওয়াসওয়াসা থেকে আত্মরক্ষার জন্য পবিত্র কোরআনে ১০টি শক্তিশালী দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, মনে কোনো মন্দ চিন্তা বা অস্থিরতা এলে কালক্ষেপণ না করে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, শয়তানের উপস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে দোয়া করা জরুরি। তৃতীয়ত, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের আগে বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে সুরক্ষা চাইতে হবে। চতুর্থত, শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণে সতর্ক থাকতে হবে, কারণ সে ছোট ছোট ধাপের মাধ্যমে মানুষকে পথভ্রষ্ট করে। পঞ্চমত, শয়তানকে সর্বদা শত্রু হিসেবে গণ্য করে মোকাবিলা করতে হবে। ষষ্ঠত, মনের ভেতর অনৈতিক বা অশ্লীল কাজের চিন্তা এলে বুঝতে হবে এটি শয়তানের পক্ষ থেকে আসছে। সপ্তমত, মুত্তাকিদের গুণাবলি হলো শয়তানের সামান্য স্পর্শ অনুভব করলেই তারা সজাগ হয়ে আল্লাহকে স্মরণ করেন। অষ্টমত, পারস্পরিক বিবাদ, শত্রুতা, মাদক ও জুয়ার মতো কাজ থেকে দূরে থাকতে হবে, যা শয়তানের হাতিয়ার। নবমত, শয়তানের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও আশার ধোঁকা থেকে সতর্ক থাকতে হবে। দশমত, শয়তানের পলায়নপর স্বভাব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে, কারণ সে শেষ মুহূর্তে দায় এড়িয়ে পালিয়ে যায়। শয়তানের এই অদৃশ্য আক্রমণ থেকে বাঁচতে নিরন্তর জিকির, ইবাদত এবং সচেতনতা প্রয়োজন।
শয়তানের কুমন্ত্রণা ও অদৃশ্য শত্রুর প্ররোচনা থেকে বাঁচতে পবিত্র কোরআনে ১০টি শক্তিশালী দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মুমিনদের আত্মিক পবিত্রতা রক্ষায় এই দোয়া ও আমলগুলো অত্যন্ত কার্যকর ও জরুরি।
সূত্র: প্রথম আলো

0 Comments