চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘরের মূল প্রবেশপথের সামনেই শোভা পাচ্ছে ৩৭০ বছরের পুরোনো এক ঐতিহাসিক নিদর্শন। মোগল সম্রাট শাহজাহানের শাসনামলে ১৬৫৬ সালে তৈরি এই কামানটির নাম ‘সার জং’, যার ফারসি অর্থ প্রধান যুদ্ধাস্ত্র। ব্রোঞ্জ দিয়ে তৈরি ১৯৭ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্য ও ৪৫ সেন্টিমিটার প্রস্থের এই কামানটি মোগলদের চট্টগ্রাম বিজয়ের ইতিহাসের এক অনন্য সাক্ষী হিসেবে বিবেচিত।
কামানে থাকা পাঁচটি শিলালিপির মধ্যে তিনটির পাঠোদ্ধার করেছেন গবেষকরা। লিপি অনুযায়ী, এটি সম্রাট শাহজাহানের মালিকানাধীন ছিল এবং বারকান্দাজ খানের তত্ত্বাবধানে মুহাম্মদ হোসেন ইজ্জত এটি নির্মাণ করেন। ইতিহাসবিদদের মতে, ১৬৬৬ সালে মোগলদের চট্টগ্রাম দখলের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে এই কামানটি ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে। সম্রাট শাহজাহানের পুত্র শাহজাদা আওরঙ্গজেব ক্ষমতা গ্রহণের পর তার মামা শায়েস্তা খাঁকে বাংলার সুবেদার হিসেবে পাঠিয়ে চট্টগ্রাম বিজয়ের অভিযান পরিচালনা করেন।
১৯৬৬ সালের ১৮ নভেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক যাত্রার দিনই এই কামানটি সংগ্রহ করা হয়। ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মমতাজ হাসান বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্বোধনী দিনে এটিসহ ২৪টি প্রত্ননিদর্শন দান করেন। এর আগে কামানটি মোগল কর্মকর্তা আদু খান হাজারীর বংশধরদের সংগ্রহে ছিল।
বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘরের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান জানান, ১৯৭৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা এই জাদুঘরে বর্তমানে ছয়টি গ্যালারি রয়েছে। এখানে সার জং কামানের পাশাপাশি ৪০০ বছরের পুরোনো হাতে লেখা কোরআন শরিফ, মধ্যযুগের দুর্লভ মুদ্রা, ৮ থেকে ১২ শতকের কষ্টিপাথরের প্রাচীন মূর্তি, নকশিকাঁথা ও প্রাচীন তৈজসপত্রসহ অসংখ্য দুর্লভ নিদর্শন শিক্ষার্থীদের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে ৩৭০ বছরের পুরোনো মোগল আমলের ঐতিহাসিক সার জং কামান। সম্রাট শাহজাহানের আমলের এই যুদ্ধাস্ত্রটি মোগলদের চট্টগ্রাম বিজয়ের এক অনন্য সাক্ষী।
সূত্র: প্রথম আলো

0 Comments