সিবি ডেক্স: চাঁদাবাজি, মারপিট ও লুটপাটের অভিযোগে যশোরের চৌগাছা থানার সাবেক ওসিসহ চার পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) চৌগাছা উপজেলার মাকাপুর গ্রামের মৃত হায়দার আলীর মেয়ে তামান্না নাজনীন লাভলী বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
মামলাটি আমলে নিয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রিয়াজ অভিযোগটি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তার মাধ্যমে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন পিবিআই’র পুলিশ সুপারকে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী তাহমিদ আকাশ।
মামলার আসামিরা হলেন— চৌগাছা থানার সাবেক ও বর্তমান ফরিদপুর ভাঙ্গা থানার ওসি আনোয়ার হোসেন, চৌগাছা থানার সাবেক এসআই বর্তমানে ঝিকরগাছা থানায় কর্মরত মেহেদী হাসান মারুফ, চৌগাছা থানার এসআই হোসেন পাটোয়ারী এবং এএসআই আব্দুর রহমান শান্ত।
অভিযোগে বলা হয়েছে, চৌগাছার মাকাপুর গ্রামের হায়দার আলী জীবদ্দশায় তার ওয়ারিশদের মধ্যে প্রায় ৪০ বিঘা সম্পত্তি বণ্টন করেন। এ জমির একটি অংশ জোরপূর্বক দখল করেন বাদীর মেজ ভাই ব্যারিস্টার একেএম মোর্তজা। এ নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে মোর্তজা থানার তৎকালীন ওসি আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগসাজশ করে বাদী ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার পরিকল্পনা করেন।
২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল ওসি আনোয়ার হোসেন ও এসআই মারুফ বাদীকে থানায় ডেকে নেন। সেদিন সন্ধ্যায় বাদী স্বজনদের নিয়ে থানায় গেলে তাকে আলাদা কক্ষে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পরবর্তীতে রাতেই মাকাপুর মুকুট ঢালির পার্কের সামনে থেকে ২ লাখ টাকা গ্রহণ করে বাকি টাকা এক সপ্তাহের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ দেন অভিযুক্তরা।
অভিযোগ অনুযায়ী, চাঁদার টাকা পরিশোধ না করায় ৬ মে অভিযুক্তরা আবারও ওই এলাকায় এসে বাদীকে খুঁজতে থাকেন। এ সময় বাদীর ভাগ্নে সিয়ামকে পেয়ে তাকে মারধর করা হয়। একইদিন সন্ধ্যায় বাদীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয় এবং ৪০ বস্তা সিদ্ধধান লুট করে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় প্রতিবাদ করলে তাদের ধরে নিয়ে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ না করে বাদীকে তাড়িয়ে দেয়। বর্তমানে পরিস্থিতি অনুকূলে আসায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।
0 Comments