একসময়ের দরিদ্র রাষ্ট্র সৌদি আরবের ভাগ্য বদলে যাওয়ার নেপথ্যে রয়েছে তেলের এক রোমাঞ্চকর ইতিহাস। ১৯৩৩ সালে সৌদি আরবের তৎকালীন শাসক বাদশাহ আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ এবং আমেরিকার স্ট্যান্ডার্ড অয়েল কোম্পানি অব ক্যালিফোর্নিয়ার মধ্যে সম্পাদিত এক চুক্তির মাধ্যমে এই যাত্রার সূচনা হয়। ব্রিটিশদের উপেক্ষা করে আমেরিকানদের সাথে এই চুক্তিটি ছিল বিশ্বরাজনীতির এক বড় মোড়।
তেল অনুসন্ধানের প্রাথমিক পর্যায়ে একের পর এক ব্যর্থতার পর ১৯৩৮ সালের ৪ মার্চ দাম্মামের ৭ নম্বর কূপে প্রায় ১ হাজার ৪৪০ মিটার গভীরে বাণিজ্যিকভাবে তেলের সন্ধান মেলে। এই অসাধ্য সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন জেদি মার্কিন ভূতাত্ত্বিক ম্যাক্স স্টেইনেক এবং অভিজ্ঞ বেদুইন গাইড খামিস বিন রিমথান। এই আবিষ্কারের মাধ্যমেই অ্যারাবিয়ান আমেরিকান অয়েল কোম্পানি বা আরামকোর উত্থান ঘটে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে সৌদি তেলের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পায়। ১৯৪৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট এবং বাদশাহ আবদুল আজিজের ঐতিহাসিক বৈঠকটি দুই দেশের সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। যদিও ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে নীতিগত পার্থক্য ছিল, তবুও তেলের কৌশলগত প্রয়োজনীয়তা তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র করে তোলে। ১৯৫০ সালে প্রবর্তিত ৫০-৫০ মুনাফা নীতি সৌদি আরবের রাজকোষকে সমৃদ্ধ করে এবং দেশটিকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। বর্তমানে সৌদি তেল শুধু জ্বালানি নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূরাজনীতির এক অন্যতম নিয়ন্ত্রক শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
মরুভূমির বালুর নিচে লুকিয়ে থাকা কালো সোনা কীভাবে বদলে দিল একটি দেশের মানচিত্র? সৌদি আরবের তেল আবিষ্কারের রোমাঞ্চকর ইতিহাস এবং বিশ্বরাজনীতির ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তনের নেপথ্য গল্প জানুন।
সূত্র: প্রথম আলো

0 Comments