পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার আগুনমুখা নদীর উত্তাল ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করে টিকে আছে দুই শতাধিক পরিবার। উপজেলার বোয়ালিয়া স্পিডবোট ঘাট এলাকায় এসব ছিন্নমূল মানুষ দীর্ঘ দুই দশক ধরে নৌকায় বসবাস করছেন। যাদের আশি শতাংশই নারী ও শিশু। জীবনধারণের জন্য তাদের একমাত্র অবলম্বন নদীতে মাছ ধরা। তবে হাড়ভাঙা খাটুনি আর চরম প্রতিকূলতার মাঝে জীবন কাটলেও সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা পৌঁছায়নি তাদের কাছে। স্থায়ী ঠিকানা বা বাড়ির হোল্ডিং নম্বর না থাকায় তারা জেলে তালিকায় নাম লেখাতে পারছেন না। ফলে বঞ্চিত হচ্ছেন ভিজিএফ চালসহ অন্যান্য সরকারি সহায়তা থেকে। সরেজমিনে দেখা যায়, এখানকার শিশুরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হয়ে শৈশবেই মৎস্য শিকারে জড়িয়ে পড়ছে। অভাবের তাড়নায় স্কুলের পরিবর্তে তারা বেছে নিয়েছে শ্রমিকের কাজ। স্থানীয় মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, আইনি জটিলতার কারণে এই জনগোষ্ঠীকে সরকারি তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে বিশেষ বিবেচনায় তাদের সহায়তার আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
পটুয়াখালীর আগুনমুখা নদীতে নৌকায় বসবাসকারী দুই শতাধিক পরিবার মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় সরকারি সহায়তা ও জেলে কার্ড থেকে বঞ্চিত এই অবহেলিত জনগোষ্ঠী।
সূত্র: প্রথম আলো

0 Comments